ফুকেট–দিল্লি রুটের এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে পাইলটের ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসার পর ভারতের বিমান চলাচল খাতে পাইলটদের মাদক পরীক্ষা আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ বছরে একবার প্রতিটি পাইলটের র্যানডম ডোপ টেস্ট চালুর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এতে পাইলটদের কার কখন পরীক্ষা হবে, তা আগে থেকে জানানো হবে না।
গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট ওডিশার আকাশে আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে আসে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পাইলটের ডোপ টেস্ট করা হলে ফল পজিটিভ আসে। পরবর্তী পরীক্ষাতেও একই ফল পাওয়া যায়। পরে ওই পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিতে বিমানকর্মী ও যাত্রীসহ প্রায় ২০ জন আহত হন।
বর্তমানে ডিজিসিএর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি এয়ারলাইন্সকে বছরে তাদের পাইলটদের ১০ শতাংশের র্যানডম ডোপ টেস্ট করতে হয়। তবে ফুকেট–দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এরই মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তাদের সব পাইলটকে বছরে অন্তত একবার ডোপ পরীক্ষার আওতায় আনা হবে। পরীক্ষার সময় আগে থেকে জানানো হবে না, যাতে পরীক্ষাটি প্রকৃত অর্থে আকস্মিক থাকে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, ডিজিসিএর পক্ষ থেকেও বছরে একবার প্রতিটি পাইলটের র্যানডম ডোপ টেস্ট করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ম চালু করা সম্ভব কি না, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তবে নতুন নিয়ম চালুর ক্ষেত্রে শুধু যাত্রী নিরাপত্তা নয়, এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। কারণ, বিপুলসংখ্যক পাইলটের নিয়মিত ডোপ টেস্ট নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরীক্ষাকেন্দ্র, প্রশিক্ষিত জনবল এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে ৪ আগস্টের ঘটনাটি তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বা এএআইবি। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং বিমানটি বর্তমানে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে খুব শিগগিরই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে এয়ার ইন্ডিয়া খারাপ আবহাওয়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। তবে তদন্ত চলাকালে উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাস হাইড্রলিক সিস্টেমের ত্রুটির বিষয়টি সামনে আনে। ফলে ফ্লাইটটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাইলটদের ডোপ টেস্টের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগকে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাদক গ্রহণের পাশাপাশি উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটি ও অন্যান্য অপারেশনাল বিষয়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে।