ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৭৪ ভরি বা ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম সোনা জব্দ করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। জব্দ করা সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) ও মো. হাছান মিয়া (২৩)।
এয়ারপোর্ট (১৩) আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরসংলগ্ন উত্তর পাশের ফুটপাতে ওই তিন ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের ওপর নজরদারি শুরু করেন।
একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনজনই সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটকের পর তাদের শরীরে তল্লাশি চালানো হলে ২১ ও ২২ ক্যারেটের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। পরে এসব স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম, যা প্রায় ৭৪ ভরির সমান।
পুলিশ জানিয়েছে, জব্দ করা স্বর্ণের মধ্যে ২১ ও ২২ ক্যারেটের স্বর্ণালংকার রয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তিনজন পুলিশকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে তা দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
এপিবিএন আরও জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর জব্দ করা স্বর্ণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেফতার তিনজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে এপিবিএনের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।