কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দরটির উদ্বোধন হতে পারে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময় চাওয়া হয়েছে। তাঁর সম্মতি পাওয়ার পর উদ্বোধনের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা নিয়ে আয়োজিত এক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধনের জন্য তাঁর সময় পাওয়া যাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিমানবন্দরটির উদ্বোধন করবেন।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোন কোন বিমান সংস্থা কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট চালু করবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে আয়োজিত সভায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিমান সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় কোন কোন বিমান সংস্থা আগ্রহী, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি শুরুতে কোন কোন দেশে ফ্লাইট চালু করা হবে, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার স্থানীয় প্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য গন্তব্য নির্ধারণ করা হবে।
তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন কতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হবে এবং প্রথম পর্যায়ে কোন কোন দেশে বিমান চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত ও আগ্রহ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আলোচনা শেষে কোন কোন বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করবে এবং সম্ভাব্য গন্তব্যগুলো কী হবে, তা চূড়ান্ত করা হবে।
উদ্বোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাবেন এবং ২৯ অক্টোবর দেশে ফিরবেন। এরপর তাঁর সময়সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের দিন নির্ধারণ করা হবে।
কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চালু হলে পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের সঙ্গে বিদেশের সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা, গন্তব্য ও বিমান সংস্থার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।