সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড়ে মুখর থাকা টার্মিনাল মঙ্গলবার অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে। সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় বিমানবন্দরের চিরচেনা ব্যস্ত পরিবেশে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে এমন দৃশ্য দেখা যায় বলে জানিয়েছে দৈনিক যুগান্তর।
শ্রীলঙ্কাগামী পর্যটক হাবিবুর রহমান বলেন, এর আগে তিনি ভারত, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু কোনো বিমানবন্দরে এমন দৃশ্য দেখেননি। আগে যাত্রী ও তাঁদের স্বজনদের ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়াতে হতো। অথচ মঙ্গলবার বিমানবন্দর প্রায় ফাঁকা ছিল। তাঁর মতে, সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
তাঁর সঙ্গে থাকা নাসিরও বিমানবন্দরের এমন চিত্রকে ব্যতিক্রমী বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তাঁরা একসঙ্গে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন, কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। ফ্লাইট বাতিলের প্রভাব বিমানবন্দরের যাত্রী উপস্থিতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কাতারগামী যাত্রী সোহেল মাহমুদ বলেন, সাধারণত বিমানবন্দরের পুরো টার্মিনাল যাত্রীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই পরিচিত দৃশ্য দেখা যায়নি। যাত্রীরা নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে না পারায় তাঁর খারাপ লাগছে বলেও জানান তিনি।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হলে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইটেও এর প্রভাব পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট রুট মিলিয়ে মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও পরিস্থিতির কারণে তাদের কিছু ফ্লাইট ১৭ ও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল করেছে।
ফ্লাইট বাতিলের খবর না জেনে বিমানবন্দরে এসে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত রোববার ও সোমবার অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে ফিরে যান। এরপর থেকে যাত্রীরা বিমানবন্দরে আসার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব যে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও যাত্রীসেবায় পড়ছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের এই চিত্র তারই প্রতিফলন।