জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্লাইট পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বিত হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে বৃহস্পতিবার রাতে টোকিওর নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর বহনকারী উড়োজাহাজ।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় ফ্লাইটটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় ককপিটে উড়োজাহাজের স্পয়লারে ত্রুটির সংকেত দেখা যায়। পরে বিমানের প্রকৌশলী ও জাপানি প্রযুক্তিবিদরা ত্রুটি মেরামত করেন। স্থানীয় সময় রাত সোয়া ১০টার দিকে উড়োজাহাজটি যাত্রার জন্য প্রস্তুত হয় এবং পৌনে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
ঢাকা-নারিতা রুটে নতুন করে ফ্লাইট চালুর পরপরই এ ধরনের ঘটনা বিমান পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ২৭ জুলাই এ রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালু করে বিমান। শুরুতে সপ্তাহে একদিন চললেও ২৯ অক্টোবর থেকে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর সম্প্রসারণে বড় পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এর বিপরীতে নতুন করে ২৫টি বোয়িং ও ১০টি এয়ারবাস কেনার চুক্তি হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে গত এপ্রিলে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এ ছাড়া ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও হয়েছে। শুধু ২৫টি বোয়িং কিনতেই ব্যয় হবে প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের দাবি, যাত্রী চাহিদা, উড়োজাহাজের সক্ষমতা, দূরপাল্লার রুট এবং ফ্লাইটের সংখ্যা বিবেচনা করেই বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের বিমানবহর ২০০টির বেশি উড়োজাহাজে উন্নীত করার লক্ষ্যও রয়েছে।
তবে এত বড় বহর পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে ১৯টি উড়োজাহাজের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেই নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর মধ্যে জনবল, অবকাঠামো, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি অন্যতম। সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের কয়েকটি উড়োজাহাজে উড্ডয়নের পর ইঞ্জিনের সমস্যা এবং জরুরি অবতরণের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিমান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯৩৭ কোটি টাকা মুনাফার কথা জানালেও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে প্রতিষ্ঠানটির আট হাজার ১০০ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে নতুন উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনার আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ালেই বিমান খাতের উন্নয়ন হবে না। প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক অবকাঠামো, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যথায় বড় বহর দেশের জন্য সম্পদ না হয়ে বাড়তি বোঝায় পরিণত হতে পারে।