বরিশালে সরকারি বিমানের সার্ভিস সংকোচনের চিন্তা

লাভজনক রুট হিসাবে একের পর এক বেসরকারি কোম্পানির বিমান ডানা মেলছে বরিশালের আকাশে। তবে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের সার্ভিস সংকোচনের চিন্তাভাবনা চলছে। যাত্রী সংকটের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স তাদের শীতকালীন সিডিউলে এ রুটে তিন দিনের পরিবর্তে দু’দিন ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। যদিও যাত্রী সেবা বৃদ্ধির জন্য বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন নানারকম নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তার নির্দেশেই এ বছর গ্রীষ্মকালীন সিডিউলে তৃতীয় ফ্লাইট হিসাবে মঙ্গলবার যুক্ত হয়েছিল। এর আগে শুধু রবি ও বৃহস্পতিবার বিমান চলাচল করতো। এখন রবিবার ও বৃহস্পতিবার ঠিক রেখে মঙ্গলবারের ফ্লাইটটি বন্ধ করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিমানের কর্মকর্তারা।

এর আগেও লোকসানের কারণে ২০০৬ সালের ১৬ নভেম্বর বিমান এ রুট থেকে সার্ভিস গুটিয়ে নেয়। ৯ বছর পর রাশেদ খান মেননের প্রচেষ্টায় গত বছর ৮ এপ্রিল পুনরায় সার্ভিস চালু হয়। বর্তমানে এ রুটে আরো দু’টি বেসরকারি সংস্থার বিমান চলাচল করছে। সপ্তাহে মোট ১১টি ফ্লাইট পরিচালিত হলেও সোম ও বুধবার এ রুটে কোন ফ্লাইট চলাচল করে না। অনেক যাত্রীর প্রশ্ন, বেসরকারি বিমানগুলো যদি যাত্রীদের চাহিদা পূরণে একের পর এক ফ্লাইট বৃদ্ধি করে লাভ করে টিকে থাকতে পারে তাহলে বাংলাদেশ বিমানের লোকসান হবে কেন। যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে গেলে টিকেট মেলে না। অথচ বিমান উড়াল দেয়ার পর দেখা যায় অল্প কয়েকজন যাত্রী। বিষয়টি ‘রহস্যজনক’ বলে মন্তব্য তাদের। গত এক বছর এ রুটে যাত্রী পরিবহন করে বিমানের লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা।

বিমানের স্থানীয় জেলা পরিচালক মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম জানান- শুরুতে এ রুটে বিমান লাভজনক অবস্থানে ছিলো। বেসরকারি বিমানের সার্ভিস চালু ও তাদের ফ্লাইট বৃদ্ধির কারণে লোকসানের মুখে পড়েছে বিমান। মঙ্গলবার সবচেয়ে কম যাত্রী পাওয়া যায়। বরিশাল বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক হনিফ গাজী বলেন, প্রাইভেট বিমানের চেয়ে সরকারি বিমানের ভাড়া অনেক কম। তারা যাত্রী পেলে সরকারি বিমানের যাত্রী না পাওয়ার কারণ স্পষ্ট নয়। শীতকালীন সিডিউলে মঙ্গলবারের ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনলেও বিমান কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি বলে তিনি জানান।

Comments (0)
Add Comment