এবার বিপিএলে কুড়ি-বিশের রোমাঞ্চ।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর যথাসময়ে মাঠে গড়ানো নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে বিদেশি ক্রিকেটারদের আগেভাগে দেশে আনেনি দলগুলো।
এবার রাখা হয়নি কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও। তাতে বিপিএলের গ্লামার কিছুটা কমলেও তারকা ক্রিকেটারের সংখ্যা বিচারে এটাই হয়তো বিপিএলের সেরা আসর হতে যাচ্ছে। মৃদু শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার ইতি টেনে নির্ধারিত সময়েই আজ মাঠে গড়াচ্ছে বিপিএলের ষষ্ঠ আসর।
নির্বাচনের পর এবার কুড়ি-বিশের রোমাঞ্চে বুঁদ হওয়ার পালা। বিপিএলের মাতাল হাওয়ায় নতুন বছরের শুরু থেকেই হোম অব ক্রিকেট মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উৎসবের আবহ। টি ২০ ক্রিকেট মানেই তো চার-ছক্কার অফুরন্ত বিনোদন। সেই বিনোদনের পেয়ালায় চুমুক দিতে প্রস্তুত গোটা দেশ। প্রস্তুত টুর্নামেন্টের তিনটি ভেন্যুও।
গত আসর শুরু হয়েছিল সিলেটে। এই আসর দিয়ে আবারও হোম অব ক্রিকেটে বিপিএল শুরু হতে যাচ্ছে। আজ উদ্বোধনী দিনে বেলা সাড়ে ১২টায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মাশরাফি মুর্তজার রংপুর রাইডার্স ও মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংসের ম্যাচ দিয়ে বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের পর্দা উঠছে। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটসের প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশের সময়ে এই টুর্নামেন্ট হওয়ায় বেশ কিছু বড় তারকা পাচ্ছে না বিপিএল। সবমিলিয়ে দেশি-বিদেশি তারকার হিসাবে এবারও এগিয়ে রয়েছে রংপুর ও ঢাকা। এবার দক্ষিণ আফ্রিকার এবি ডি ভিলিয়ার্স, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল এবং ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস খেলবেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরের হয়ে। তবে গত আসরে খেলা আফগান লেগ-স্পিনার রশিদ খান, নিউজিল্যান্ডের ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম এবং ইংল্যান্ডের জস বাটলার এবার বিপিএলের বদলে বিগ ব্যাশকে বেছে নিয়েছেন।
এবারের আসরে প্রথম খেলতে আসা অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নারের চোখে অবশ্য এগিয়ে রয়েছে বিপিএলই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুনীল নারিন, কিয়েরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, কার্লোস ব্রাফেট, এভিন লুইস ও শেলডন কট্রেল, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক এবং ইংল্যান্ডের ইয়ান বেল বিপিএলের বিভিন্ন দলের হয়ে খেলবেন। আজ থেকে শুরু হওয়া টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৪ ফেব্রুয়ারি। টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে দুই কোটি টাকা।
গতবার রংপুরকে নেতৃত্ব দিয়েই চ্যাম্পিয়ন করেছেন মাশরাফি মুর্তজা। এবার মাশরাফির সামনে অন্য চ্যালেঞ্জ। সদ্য সংসদ সদস্য হয়েছেন। এমপি কাম ক্রিকেটার হিসেবে আজ মাঠে নামবেন তিনি। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপও রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এবং সংসদ সদস্য হওয়ার যে হাওয়া, সেখান থেকে যেন বের হতে কষ্টই হচ্ছে মাশরাফির। তবু মাঠে ফিরে নিজেকে শুধু খেলোয়াড় ভেবেই এগিয়ে যেতে চান তিনি।
বিপিএলে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক যে মাশরাফিই। পাঁচবারের মধ্যে চারবারই শিরোপা উঠেছে মাশরাফির হাতে। সাফল্যের রেসিপি তার চেয়ে আর কেউ ভালো জানেন না।
বিপিএলে নিজের সাফল্য নিয়ে কাল মাশরাফি বলেন, ‘কাল (আজ) থেকে আমাদের খুব ভালোভাবে শুরু করতে হবে। খারাপও হতে পারে, তবে নিশ্চিত করতে হবে যেন পরে ঘুরে দাঁড়াতে পারি। গত মৌসুমেও শুরুর দিকে আমরা হারছিলাম, পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। এই মানসিকতা থাকতে হবে। যেহেতু অনেক জায়গার খেলোয়াড় আসে, বন্ধনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে থাকা, একসঙ্গে উপভোগ করা।’ দলে বড় নামের বিদেশি ক্রিকেটার রয়েছেন বলেই শুধু নিজেদের এগিয়ে রাখতে রাজি নন মাশরাফি।
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক এবার মুশফিকুর রহিম। চিটাগংয়ে রয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুলও। যিনি বিপিএলকে কলঙ্কিত করেছিলেন ফিক্সিং করে। প্রায় ছয় বছর পর আজ আবার তার বিপিএলে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। চিটাগং ভাইকিংস আগের আসরে ভালো ফল না পেলেও মুশফিক এবার ছবিটা পাল্টাতে চান। নেতৃত্ব দিতে চান সামনে থেকেই।
এদিকে রংপুরের মতোই তারকা ক্রিকেটারে ঠাসা ঢাকা। অন্যতম ফেভারিট হিসেবে তারা মাঠে নামছে। আন্দ্রে রাসেল-সুনীল নারিনদের নিয়ে শুরুটা ভালো করার অপেক্ষায় অধিনায়ক সাকিবও। রাসেলের বিশ্বাস, সাকিবের অধিনায়কত্ব দলকে এবার চ্যাম্পিয়ন করতে পারে।
আজ ঢাকার প্রতিপক্ষ রাজশাহী কিংসকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২১ বছর বয়সী মেহেদী হাসান মিরাজ। মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই সবচেয়ে কম বয়সে বিপিএলে নেতৃত্ব দিয়ে রেকর্ড গড়ে ফেলবেন।
ঢাকায় প্রথম রাউন্ডে নয়দিনে মোট ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিপিএল চলে যাবে সিলেটে। সেখানে পাঁচদিনে মোট আটটি ম্যাচ হবে। আবার ঢাকায় এসে ২১-২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ছয়টি ম্যাচ হবে। এরপর বিপিএল শুরু হবে চট্টগ্রামে। ২৫-৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০টি ম্যাচ হবে সেখানে। এরপর থেকে বাকিটা হবে মিরপুরেই।