বেশি দামে টিকিট কেটেও সেবা পাচ্ছে না থাই এয়ারের যাত্রীরা

বেশি দামে টিকেট কেটেও যাত্রী সেবা পাচ্ছেন না ঢাকা-ব্যাংকক রুটে পরিচালিত থাই এয়ার ওয়েজের যাত্রীরা। বোর্ডিং ব্রিজ না দেয়ায় ব্যাংকক সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে প্রতিদিন রোগী এবং বৃদ্ধ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কখনও কখনও বিমানবন্দর কর্মীদের চরম দুর্ব্যবহারেরও শিকার হচ্ছেন তারা। বিজনেস ক্লাসের যাত্রীরাও যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না বলে একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেছেন। তাদের বক্তব্য থাই এয়ারলাইন্স কতৃপক্ষ যাত্রীদের সেবার কথা জিন্তা না তাদের লোকাল ম্যানেজমেন্ট ও কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সুবিধা দিতেই সারাক্ষন ব্যস্ত সময কাটান । ঢাকায় কর্মরত থাই এয়ারওয়েজের কর্মকর্তা সেলিম মোস্তাক অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, কোন কোন সময় বোর্ডিং ব্রিজের অভাব হয়। তখন বাসে যাত্রীদের টার্মিনালে আনা নেয়া করতে হয়। তবে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক একজন যাত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে একটু বিলম্ব হলেও এখানে বোর্ডিং ব্রিজ সুবিধা দেয়া হয়। অথচ ব্যাংককে বাংলাদেশের কোন এয়ারলাইন্সকে বোর্ডি ব্রিজ সুবিধা দেয় না। অথচ টিকেট মুল্য সবচেয়ে বেশি থাই এয়ারওয়েজের।
যাত্রীদের বক্তব্য যথাযথ  সময়ে চলাচল, উন্নত যাত্রীসেবায় আরামদায়ক ভ্রমনের জন্য ঢাকা-ব্যাংকক রুটের যাত্রীদের প্রথম পছন্দ ছিল থাই এয়ারওয়েজ। শুধু থাইল্যান্ড নয়, ব্যাংকক হয়ে অন্যান্য দেশে ভ্রমনের জন্যও টিজি কলসাইনে চলা এয়ারলাইন্সটি যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিল। অন্যান্য এয়ারলাইন্সের চেয়ে কয়েক হাজার টাকা বেশি দিয়ে তাই যাত্রীরা থাই এয়ারলাইন্সের টিকেট কাটছে। চাহিদার কারণে এয়ারলাইন্সটি প্রতিদিন ঢাকা-ব্যাংকক রুটে একটির পরিবর্তে বর্তমানে দুটি ফ্লাইট পরিচালণা করছে। সম্প্রতিক কালে এই এয়ারলাইন্সের যাত্রীসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দিনের দুইটি ফ্লাইটই ঢাকা থেকে ছেড়ে ব্যাংকক সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে অবতরন করেও  কোন বোর্ডিং ব্রিজ পাচ্ছে না। যাত্রীদের খেলা আকশের নিচে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে বাসে করে টার্মিনালে নেয়া হচ্ছে। একই ভাবে উঠানো হচ্ছে বিমানে। ফলে যাত্রীদের বিশেষ করে বৃদ্ধ, নারী, শিশু এবং চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীদের চরম দুর্ভোগে পরতে হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ বেশি দামে টিকিট কেটেও এখন আর থাই এয়ারে যাত্রীসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু বোর্ডিং ব্রিজের পরিবর্তে বাসে আনা নেয়া নয়, ইনফ্লাইট যাত্রীসেবারও অবনতি হয়েছে। এমনকি বিজনেস ক্লাসে টিকেট কেটেও যথাযথ যাত্রীসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ সম্পর্কে থাই এয়ার কর্মকর্তা সেলিম মোস্তাক বলেন, আমরা এধরনের কোন অভিযোগ লিখিতভাবে পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই বিষয়গুলি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া ব্যাংকক বিমান বন্দরেও অভিযোগ করা যেতে পারে। তিনি বলেন সুবর্ণভূমি বিমান বন্দরে মোট বোর্ডিং ব্রিজ ১১৩টি। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানসহ উন্নত দেশগুলোতে থেকে আশা বড় পরিষরে বিমানগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এশিয়ার দেশগুলো থেকে যাওয়া বিমানগুলোকে অনেক ক্ষেত্রে টার্মিনালের বাইরে বে‘ তে পার্কিং করানো হয় এবং বাসে করে যাত্রীদের আনা নেয়া করা হয়। তবে চাহিদা পত্র পেলে রোগী ও বৃদ্ধ যাত্রীদের জন্য এম্বো লিফটের ব্যবস্থা করা হয়। এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার (অপস) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অব্যশই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এয়ারলাইন্স ইচ্ছা করলেই যাচ্ছে তাই করতে পারে না। যাত্রীদের প্রাপ্য সুবিধা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে সব এয়ারলাইন্সকেই।

Comments (0)
Add Comment