৭৮৭ ম্যাক্স-৮ বিপর্যয়ে এখনও অন্ধকারে বোয়িং।
৭৮৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজের কারণে কী পরিমাণ ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় বোয়িং। নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির কারণে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটায় এ সংকটে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বের সর্ববৃহৎ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে চলতি বছরের মুনাফার বিষয়েও কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বোয়িং। সব মিলিয়ে প্রথম প্রান্তিকে বোয়িংয়ের আয় ২১ শতাংশ কমে গেছে বলে জানানো হয়েছে। খবর: সিএনএন, বিবিসি।
সর্বশেষ প্রতিবেদনে বোয়িং জানিয়েছে, কবে নাগাদ ৭৮৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজ উড্ডয়নের অনুমোদন পেতে পারে সে ব্যাপারে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ফলে চলতি বছরের মুনাফা কেমন হতে পারে সে ব্যাপারে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ৭৮৭ সরবরাহ ব্যাপক হ্রাস পাওয়ায় এরই মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার আয় কমেছে বোয়িংয়ের। এতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় ও মুনাফা উভয়ই কমে গেছে।
গত মার্চে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ৭৮৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলে অন্তত ১৫৭ যাত্রী ও ক্রু প্রাণ হারান। পাঁচ মাসের মধ্যে এ মডেলের উড়োজাহাজের মাধ্যমে দ্বিতীয় বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এ মডেলের সব উড়োজাহাজ উড্ডয়ন বন্ধ করে দেয়। এর আগে ২০১৯ সালে আয়-মুনাফা বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস করেছিল বোয়িং। তবে দুটি দুর্ঘটনার পর সে অবস্থান থেকে সরে এলো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।
প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বোয়িং জানিয়েছে, ৭৮৭ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এটি কবে নাগাদ উড্ডয়ন শুরু করবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে ভবিষ্যতের কোনো এক তারিখে মুনাফার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা যাবে। ইতোমধ্যে এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে ৭৮৭ মডেলের উড়োজাহাজের উৎপাদন মাসিক ৫২টি থেকে ৪২টিতে নামিয়ে এনেছে বোয়িং।
এ বিপর্যয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে সর্বমোট ৩৮৭টি ৭৮৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজের উড্ডয়ন বন্ধ রেখেছে এয়ারলাইনসগুলো। ওই দুই দুর্ঘটনার পর ৭৮৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের উড়োজাহাজের জন্য নতুন সফটওয়্যার ডেভেলপ ও অ্যান্টি স্টল সিস্টেম ডেভেলপ শুরু করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এ দুটি ব্যবস্থার দুর্বলতার ব্যাপারটি ব্যাপক আলোচনায় আসে।