ঈদ সার্ভিসে প্লেনের টিকিট সোনার হরিণ

ঈদ সার্ভিসে প্লেনের টিকিট সোনার হরিণ।

ঈদের বাকি এখনো ৫ দিন; অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন রুটের এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রি শেষ। ঈদ সার্ভিস হিসেবে চালু হওয়া বিশেষ ফ্লাইটের যে টিকিট রয়েছে তা এখন সোনার হরিণ। একটি টিকিট পেতে দিতে হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ দাম।

জানা যায়, ঈদযাত্রায় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশ বিমানের ১১৯টি ফ্লাইট চলবে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বাড়তি ৬০টি ফ্লাইট চলাচল করবে দেশের বিভিন্ন রুটে।
ঢাকা-রাজশাহী রুটে আগে সপ্তাহে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ চলত ৪টি। ঈদের সময় বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯টি। ঢাকা-চট্টগ্রামে রুটে আগে চলত ২৮টি, ঈদে চলবে ৩৫টি।

ঢাকা-যশোর রুটে ৭টির স্থলে চলছে ১২টি; ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে ৭টির স্থলে ১৪টি; ঢাকা-বরিশাল রুটে ৪টি উড়োজাহাজের স্থলে এখন চলছে ৫টি। গতকাল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বনানী অফিসে টিকিট কাটতে যান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইয়াসিন আরাফাত। তিনি বলেন, বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া বেশি হওয়ায় বিমানের টিকিটের জন্য এসেছিলাম।

কয়েকটি এজেন্সিতে ৪ তারিখের টিকিটের জন্য গিয়েছি। কিন্তু কোথাও কক্সবাজারের টিকিট পাইনি। যাত্রীদের অভিযোগ, স্বল্প মূল্যের টিকিট ‘ব্লক’ করে রেখে ইকোনমি ক্লাসেও চড়া দাম হাঁকা হচ্ছে। একটি ট্রাভেল এজেন্সির এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের সময় স্বল্প ভাড়ার টিকিটগুলো কোনো কোনো এয়ারলাইন্স ব্লক করে আপার ক্লাসে রেখে দেয়। ফলে শুরু থেকেই ভাড়া বেশি দেখায়।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে আগে টিকিট বিক্রি হতো সর্বোচ্চ তিন হাজার ২০০ টাকায় (ওয়ান ওয়ে); এখন আট হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকা-যশোর রুটের দুই হাজার ৫০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে আট হাজার টাকায়। ঢাকা-বরিশাল রুটের তিন হাজার টাকার ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার ৫০০ টাকা।

ঢাকা-রাজশাহী রুটের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে আট হাজার টাকায়, যা স্বাভাবিক সময়ে বিক্রি হয় তিন হাজার টাকায়। একইভাবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ছয় থেকে আট হাজার, কক্সবাজার আট থেকে ১২ হাজার এবং সিলেট রুটে পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায় টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ জানান, ঈদ উপলক্ষে এমনিতেই বাড়তি চাপ থাকে।

এই চাপ সামাল দিতে সম্প্রতি লিজে আনা একটি বোয়িং বিমানকেও কাজে লাগানো হয়েছে। অনলাইনে বিমানের টিকিট উন্মুক্ত, এটা আটকে রাখার কিংবা ব্লক করে রাখার সুযোগ নেই। সব যাত্রীই বিমানের কাছে সমান।

তা ছাড়া বিমানের টিকিট এখন অটোমেশন পদ্ধতিতে চলে। চাহিদা কম থাকলে যাত্রীদের কম ভাড়া দিতে হয়। চাপ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তাদের গুনতে হয় বেশি ভাড়া। এখানে কারও হাত নেই বলে দাবি করেন তিনি।

Comments (0)
Add Comment