বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের ভোলার পরিদর্শক নাসিম আহমেদ বলেন, সমুদ্র আইনে ভোলা-বরিশাল নৌপথকে মৌসুমি অশান্ত নৌপথ (ডেনজার জোন) ঘোষণা করে ১৫ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাত্রীবাহী স্পিডবোট, ট্রলার, ছোট নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এ সময় বে-ক্রসিং সনদধারী ছাড়া অন্য সব নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সরকার। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসন কাজ করছে বলে জানা যায়। তবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট থেকে বরিশাল লাহারহাট ও বরিশাল শহরের উদ্দেশে শতাধিক স্পিডবোট ও কয়েকটি ট্রলার ছেড়ে যাচ্ছে। এসব স্পিডবোট পুরোনো, ফাটা ও জোড়াতালি দেওয়া। কোনোটিতে লাইফ জ্যাকেট নেই। অনেক সময় পানি ওঠে। একটি স্পিডবোটে আটজনের জায়গায় ১২ থেকে ১৫ জন করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, স্পিডবোটের চালকেরা প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। অনেক সময় যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে পথের মধ্যে স্পিডবোট বিকল হয়েছে বলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখে। নইলে চরে আটকে রাখে।
বরিশাল থেকে আসা এক স্পিডবোটের চালক আবুল বসাক বলেন, যাত্রীরা ঠিকমতো ভাড়া দিতে চান না বলেই তাঁদের মাঝেমধ্যে বকাঝকা করা হয়।
এ ছাড়া ভোলা থেকে লাহারহাট ২০-২৫ মিনিটের পথ। সেখানে ভাড়া ১৫০ টাকা। আর ভোলা থেকে বরিশাল শহর ৩০-৪০ মিনিটের পথ। সেখানে নিচ্ছে ৩০০ টাকা। কোনো যাত্রীর কাছে ব্যাগ বা মালামাল থাকলে তার জন্য বাড়তি ৫০ থেকে ১০০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।
চরফ্যাশনের আসলামপুরের সোহরাব আলী ধান বিক্রি করে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন বরিশাল। দিনে দিনে বাড়ি পৌঁছার জন্য তিনি স্পিডবোট বেছে নেন। কিন্তু অর্ধেক টাকা চলে গেছে পথের খরচে। গত বুধবার সোহরাব বলেন, ‘এনে (স্পিডবোটে) কোলের পোলাপাইনেরও ভাড়া দেওন লাগে।’
স্পিডবোটের যাত্রী ও আইনজীবী মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী ও ভাড়া নিয়ে এগুলো চলছে। ওঠা-নামার কোনো ঘাট না থাকলেও টোল ঠিকই দিতে হচ্ছে।
যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ অস্বীকার করে ভোলা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী স্পিডবোট মালিক সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাজাহান বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমরা কাগজপত্র তৈরি করব। তারপরও প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন, সাংবাদিক, আইনজীবী সবাই স্পিডবোটে চড়ে বলেই আমরা চালাই। ভাড়া আমরাই নির্ধারণ করি।’
জেলা প্রশাসক সেলিম রেজা বলেন, অবৈধ নৌযান চলাচল বন্ধে অভিযান চালানো হবে।