এটি তো আপনার প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী, কেমন লাগছে?
অনেক বেশি উত্তেজনা কাজ করছে। কোনো অনুষ্ঠানে গান গাইতে গেলেও মনে হচ্ছে ছবিগুলো ঘরে ঠিকমতো রাখা আছে কি না, সবাই আমার আঁকা ছবিগুলো পছন্দ করবে কি না—এসব। এক সময় ভাবলাম আমি কি গানের থেকে ছবি আঁকতে বেশি ভালোবাসি? তারপর নিজেই এর উত্তর পেলাম। আসলে, সংগীত আর ছবি আঁকা দুই-ই আমার ভালোবাসার জায়গা। তবে প্রথম কোনো কাজের অন্য রকম একটা উত্তেজনা তো থাকবেই। ১ এপ্রিল বিকেল চারটায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার।
প্রদর্শনীর জন্য কি নতুন করে ছবি আঁকতে হচ্ছে?
এখানে আমার পাঁচ-ছয় বছর বয়সের আঁকা ছবিও প্রদর্শিত হবে। থাকবে সুই-সুতার কিছু কাজ। আবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে আঁকা একদম নতুন কিছু ছবিও আছে। সব মিলিয়ে প্রায় এক শরও বেশি ছবি প্রদর্শন করার পরিকল্পনা আছে।
এই প্রদর্শনীর পরিকল্পনা কি হুট করেই নেওয়া?
আমার বাবা ছিলেন একজন চিত্রকর। তিনি খুব ভালো ছবি আঁকতেন। তাঁর কাছ থেকেই হয়তো আঁকাআঁকির গুণটি পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আমার ভীষণ ঝোঁক। কিন্তু আব্বা চাইতেন আমি যেন একজন ভালো সংগীতশিল্পী হই। তিনি আমাকে সব বিষয়ে অল্প অল্প করে না শিখিয়ে এই একটি বিষয়েই সেরা হিসেবে তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর এ জন্য বাড়ির সব রং-তুলি বাবা লুকিয়ে রাখতেন। যেন গান থেকে আমার মনোযোগ ছবি আঁকার দিকে না ঝুঁকে যায়। তখন সুই-সুতার সাহায্যে কাপড়কে ক্যানভাস বানিয়ে সেখানেই ছবি আঁকতাম। এখন মা আমাকে ছবি আঁকার বিষয়ে অনেক অনুপ্রেরণা দেন। আমার বিশ্বাস, বাবা বেঁচে থাকলে তিনিও আমার এই কাজকে এখন উৎসাহিত করতেন।
এ ছাড়া আর কী নিয়ে ব্যস্ত?
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করছি, নিয়মিত লেখালেখিও চলছে। কিছুদিন আগে আমার একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তবে এটি কোনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বাজারে আনা হয়নি। আমার সন্তানসম প্রয়াত রাশেদীন ফয়সালের উদ্যোগ আর আগ্রহ থেকেই কাজটি করা। তা ছাড়া সংসার, নাতনিকে সময় দেওয়া; এসব করে দিনকাল বেশ ভালোই কেটে যাচ্ছে। আমি আসলে কাজের মধ্যে থাকতেই ভালোবাসি। অবসর নিতে চাই না, আমার একমাত্র অবসর হবে মৃত্যু।