শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো অব্যবস্থাপনা: ধাপে ধাপে লাগে বাড়তি টাকা

শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো অব্যবস্থাপনা: ধাপে ধাপে লাগে বাড়তি টাকা।

পণ্য সরবরাহ সেবার উন্নয়ন হলেও রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অব্যবস্থাপনা দূর হয়নি। ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, পণ্য খালাস ও রপ্তানিতে ধাপে ধাপে গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ফলে প্রতি টন পণ্যে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয়। যদিও বাংলাদেশ বিমানের দাবি অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধে পুরো কার্গো ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে।

আকাশপথে দৈনিক গড়ে এক হাজার টন পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিপুল অর্থ ব্যয়ে আনা বিভিন্ন পণ্য খালাস ও রপ্তানির জন্য বিমানে তোলা পর্যন্ত অন্তত ১৫ ধাপে ঘুষ দিতে হচ্ছে। এতে প্রতি টন পণ্যে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হয় ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে সুষ্ঠুভাবে না রাখায় অনেক মালামাল যেমন হারিয়ে যাচ্ছে তেমনি খোলা আকাশের নিচে রানওয়েতে পড়ে থেকেও নষ্ট হচ্ছে।

ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. বখতেয়ার বলেন, এ অবস্থার যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা বলা যাবে না। মালামাল হারাচ্ছে, চুরি হচ্ছে, একটা মালের কারণে এক্সপোর্ট ডিলে হয়ে যাচ্ছে। আনঅফিসিয়ালি খরচ যেটা পার্কে যেতে তিন থেকে চারশো টাকা খরচ হয়, মানে ৩০০০ হাজার টাকা।

এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. হাতেম বলেন, এমন অবস্থায় মালামাল রাখা হয় সেটা খুঁজে বের করতে ৩ থেকে ৪ দিন লেগে যায়। এয়ারে মাল এনে যদি দ্রুত ছাড় করতে না পারি এক সপ্তাহ ফেলে রাখতে হয় তাহলে লাভ কী?

অতিরিক্ত টাকা দিতে হয় যেখানে-

এয়ারওয়ে বিল সংগ্রহ – শুল্কমুক্ত পণ্য ১০০ টাকা- বাণিজ্যিক পণ্য ৩০০ -৪০০ টাকা।

চালানের প্রডিউস স্লিপ উপস্থাপন শুল্কমুক্ত পণ্য ১০০, বাণিজ্যিক পণ্য ৪০০ টাকা।

প্রডিউস স্লিপে সই (৩) শুল্কমুক্ত পণ্য ৩০০, বাণিজ্যিক পণ্য ৬০০ টাকা।

গুদামে পণ্য রাখার রশিদ কাটা- শুল্কমুক্ত পণ্য ২০০, বাণিজ্যিক পণ্য ৫০০ টাকা।

গুদাম পণ্য রাখতে সই শুল্কমুক্ত পণ্য ৪০০ টাকা, বাণিজ্যিক পণ্য ৬০০ টাকা।

ক্যানোপি থেকে গুদামে পণ্য আনা- শুল্কমুক্ত পণ্য ছোট বক্স ২৫/ ১০০/ বাণিজ্যিক পণ্য বড় বক্স ২০০/ ৫০০ টাকা।

র‌্যাকে পণ্য রাখতে ফর্কলিট ব্যবহার- শুল্কমুক্ত পণ্য ১০০, বাণিজ্যিক পণ্য ৪০০ টাকা।

মূল্যবান পণ্য রাখার গেট শুল্কমুক্ত পণ্য ২০০ বাণিজ্যিক পণ্য ৪০০ টাকা।

পণ্য ডেলিভারি গেট শুল্কমুক্ত পণ্য ২০০ বাণিজ্যিক পণ্য ৪০০ টাকা।

যদিও বাংলাদেশ বিমান বলছে, কার্গো ব্যবস্থাপনা উন্নত করা হয়েছে। অধিকাংশ কাজ অনলাইনে হওয়ায় নেই আগের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতি।

বিমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বির হোসেন বলেন, আমরা সিস্টেম উন্নত করার চেষ্টা করছি। আগে যেখানে ম্যানুয়ালি কাজ হতো সেখানে অটোমেশনে কাজ করা হচ্ছে। মনিটরিং সিস্টেম উন্নত করা হয়েছে।

গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ বিমান মোট কার্গো হ্যান্ডলিং করেছে ২ লাখ ১৩ হাজার টন।

Comments (0)
Add Comment