পাইলটের ভুলেই ইয়াঙ্গুনে বিমান দুর্ঘটনা, বরখাস্ত দুইজন

পাইলটের ভুলেই ইয়াঙ্গুনে বিমান দুর্ঘটনা, বরখাস্ত দুইজন।

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ বিমান দুর্ঘটনা পাইলটের কারণেই হয়েছে বলে তদন্তে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানের দুই পাইলটকে বরখাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা হলেন- পাইলট নজরুল ইসলাম শামীম ও কো-পাইলট আনোয়ার পারভেজ আকাশ।

এ-সংক্রান্ত মিয়ানমার এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান অবতরণের সময় পাইলট যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেননি। বিমানের গতিও ছিল অনিয়ন্ত্রিত। প্রতিকূল আবহাওয়ার ভেতরেই অবতরণের সময় বিমান চালানোর দায়িত্বে ছিলেন কো-পাইলট। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব তদন্তেও পাইলটের ভুলের বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ৮ মে ঢাকা থেকে বিমানের ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ বিমানটি ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে বাইরে চলে যায়। বিমানটিতে এক শিশুসহ ২৯ জন যাত্রী, দুইজন পাইলট, দুইজন কেবিন ক্রু ও দুইজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। দুর্ঘটনায় ৩৪ জন আহত হন। ওই ফ্লাইটের পাইলট ছিলেন নজরুল ইসলাম শামীম ও কো-পাইলট আনোয়ার পারভেজ আকাশ।

পাইলট নজরুল ইসলাম শামীম গুরুতর আহত হওয়ায় দেশে ফিরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা নেন। ফ্লাইটের কেবিন ক্রু ফারজানা গাজী অভ্রও গুরুতর আহত হন। গত ১০ মে তাকে মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ায় ১২ মে অস্ত্রোপচার করা হয়।

ঘটনা তদন্তে বিমানও একটি কমিটি গঠন করে। বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরীকে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কমিটিতে আরও ছিলেন বিমানের ম্যানেজার (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স) নিরঞ্জন রায়, ড্যাশ-৮ বিমানের প্রশিক্ষক ক্যাপ্টেন সৈয়দ এম মুয়িম, ডেপুটি চিফ ইঞ্জিনিয়ার (লাইন ম্যান্টেনেন্স) মোহাম্মদ হানিফ, ম্যানেজার (ফ্লাইট সেফটি) মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের একজন প্রতিনিধি।

এই কমিটির প্রতিবেদনেও পাইলটদের ভুলকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ফ্লাইটের পাইলট ও কো-পাইলটকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

বিমানের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি শোয়েব চৌধুরী বলেন, এই দুর্ঘটনাটি মিয়ানমারে হওয়ায় তদন্ত করে মিয়ানমার এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ। মিয়ানমারকে তদন্তে সহায়তা করে বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ (এএআইজি)।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবতরণের সময়ে সঠিক নিয়ম অনুসরণ করেননি পাইলট। আবহাওয়া খারাপ থাকার পরও পাইলট নিজে দায়িত্ব পালন না করে কো-পাইলটকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রথমে একবার অবতরণ করতে না পেরে ‘গো-অ্যারাউন্ড’ করা হয়। পরবর্তী সময়ে যখন বিমানটি অবতরণ করে, তখন নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি গতি ছিল। রানওয়ের ২১-এ নির্ধারিত জায়গা থেকে আরও বেশি দূরে গিয়ে অবতরণ করেছে বেশি গতিতে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপের প্রধান ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন এম রহমতউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার এয়ারক্রাফট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমাদের হাতে প্রতিবেদনটি এসেছে। দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে পাইলটের মিস হ্যান্ডলিংয়ের বিষয়টি উঠে এসেছে।’

সূত্র : জাগো নিউজ

Comments (0)
Add Comment