রোববার উত্তর দিল্লির মৌজপুরের এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে, হিন্দুরা পাহারা দিয়েছেন মসজিদ, আর মন্দির পাহারা দিয়েছেন মুসলিমরা।
আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, নূর-ই-ইলাহি গলিতে পাশাপাশি অবস্থিত আজিজিয়া মসজিদ এবং হনুমান মন্দির, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘিরে দিল্লিতে সহিংসতার উত্তাপ টের পেতেই হনুমান মন্দির পাহারা দিয়েছেন মুসলিমরা, অপরদিকে আজিজিয়া মসজিদ পাহারা দিয়েছেন হিন্দুরা।
দিল্লির সহিংসতায় মধ্যে মন্দির-মসজিদ রক্ষায় উঠে এসেছে গণতান্ত্রিক দেশের ঐক্যের চিত্র। মৌজপুরে সহিংসতার খবর পৌঁছতেই নূর-ই-ইলাহির মন্দির-মসজিদ এলাকায় তখন ঐক্যের চিত্র। একত্রিত হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লড়াই। সতর্ক হয়ে যান বাসিন্দারা।
রোববার এলাকায় পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হতেই এলাকার সিনিয়র নাগরিকরা বৈঠকে বসেন। একসঙ্গে ঠিক করেন হিংসা নয়, পারিপার্শ্বিক অবস্থা যাই হোক না কেন, এতদিন যেভাবে ছিলেন এখনও তেমনভাবেই থাকবেন তারা। এলাকার বাসিন্দা ফয়জান বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমানের কোনো বিভেদ নেই। আমাদের শৈশব মন্দির ও মসজিদে কেটেছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণ পর, একদল মন্দিরের পাশ থেকে গলিতে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল।
উভয় উপাসনালয়ে আক্রমণ করতে চেয়েছিল তারা। তবে আমরা প্রতিরোধ করেছি। একই এলাকার বাসিন্দা সুনীল কুমার বলেন, আমাদের একে অপরের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। অনেকেই আহত হয়ে আমাদের এলাকায় আসেন চিকিৎসার জন্য। তাদের সুস্থ করে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি। আমাদের এ সম্প্রীতি আগামীতেও একই থাকবে।