শুক্রবার বিকাল ৪ টায় ফ্লাইটটি কাঠমুন্ডেুর উদ্দেশ্যে শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রায় আধ ঘন্টা আকাশে উড়ার পর পাইলট ক্যাপ্টেন সাহাদাত হোসেন দেখতে পান উড়োজাহাজের একটি ইঞ্জিনের ইপিআর (ইঞ্জিন প্রেসার রেশিও) কাজ করছে না। এরপর তিনি ঝুকি না নিয়ে আরো আধ ঘন্টা চালিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফেরত নিয়ে আসেন। এয়ারবাস কোম্পানীর ওই উড়োজাহাজে মোট আসন ছিল ২২১টি।
তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ৮টা) উড়োজাহাজটি মেরামত হয়ে গেলেও পাইলট না থাকায় ফ্লাইটটি দ্বিতীয় দফায় ছাড়া সম্ভব হয়নি। জানাগেছে শেষ পর্যন্ত ককপিট ক্রু পাওয়া না গেলে ফ্লাইটটি বাতিল করা হতে পারে।
জানা গেছে ফ্লাইটটি শাহজালালে অবতরণের পর পরই পাইলট ক্যাপ্টেন শাহাদাত হোসেন কাউকে না বলে বাসায় চলে গেছেন। বর্তমান বিমানের এয়ারবাসের পাইলট সংকট চলছে। একারণে এয়ারবাসের পাইলটদের প্রতিদিন একাধিক ফ্লাইট করতে হচ্ছে। ক্যাপ্টন সাহাদাত হোসেনও শুক্রবার সকালে একটি ফ্লাইট নিয়ে ব্যাংক যান এবং বিকালে ব্যাংকক থেকে ফেরত আসেন।
তিনি ঢাকায় ফেরত আসার পর বিমানের ফ্লাইট সিডিউল বিভাগ কোন পাইলট না পেয়ে দ্বিতীয় দফায় তাকে আবার কাঠমুন্ডু যাওয়ার অনুরোধ করেন। পাইলট তাতে রাজিও হন। এরপর বিকাল ৪টায় তিনি দ্বিতীয় দফায় ফ্লাইট নিয়ে কাঠমুন্ডু রওনা দেন। কিন্তু এক ঘন্টা ফ্লাই করে ইপিআরে ত্র“টির কথা বলে আবার শাহজালালে জরুরী অবতরণ করেন।
বিমানের প্রকৌশর শাখার একটি সুত্র জানায় ইপিআরে যে ক্রুটি ছিল তা নিয়ে যে কোন পাইলট ফ্লাইটটি নিয়ে কাঠমুন্ডে পৌছতে পারতেন। একটি উড়োজাহাজে সাধারণত দুটি ইঞ্জিন থাকে। বাংলাদেশ থেকে কাঠমুন্ডে যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট। পাইলট যে দুরুত্ব থেকে ফেরত এসেছেন এ ধরনের ত্র“টি নিয়ে আরো আনেক বেশি দুরুত্বে ফ্লাই করতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না। কারণ ফেরত আসতে তার আধ ঘন্টা সময় লেগেছে।
এই আধ ঘন্টার সঙ্গে আর মাত্র ১৫ মিনিট বেশি চালালে ফ্লাইটটি কাঠমুন্ডে পৌছে যেতে পারতো। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) রুলস অব রেগুলেশন অনুযায়ী এধরনের দুরুত্বে সংশ্লিষ্ট ত্র“টি নিয়ে যে কোন ফ্লাইট নিয়ে গন্তব্যে পৌছা সম্ভব।