নওয়াজ শরিফের পাসপোর্ট নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরমধ্যেই দেশটির সরকার জানিয়েছে, তিনবারের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করবে না ইসলামাবাদ।

রাজধানী ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ আহমেদ জানান, যুক্তরাজ্য থেকে নওয়াজ শরিফকে দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে তার পাসপোর্ট নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চিকিৎসার জন্য ২০১৯ সালের নভেম্বর থেকে লন্ডনে আছেন নওয়াজ শরিফ। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন তিনি পাকিস্তানের পাসপোর্ট ব্যবহার করে কোথাও যেতে পারবেন না বলে জানান আহমেদ।

‘তার কাছে এখন একটাই সুযোগ পাকিস্তানে ফিরে আসা।’ জোর দিয়ে বলেন আহমেদ। তিনি আরও বলেন, সরকার তার পাসপোর্ট নবায়ন করবে না। কারণ তিনি পাকিস্তানের নো ফ্লাই লিস্টভুক্ত। যদি তিনি দেশে ফিরতে চান তাহলে সরকার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনুমতি দেবে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন চুক্তি না থাকায় নওয়াজকে ফিরিয়ে আনা ইসলামাবাদের জন্য কঠিন হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

আনাদোলু এজেন্সিকে তিনি বলেন, মেয়াদউত্তীর্ণ পাসপোর্ট তার ভ্রমণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। তিনি এখনো যুক্তরাজ্যের বাইরে যে কোনো জায়গায় ভ্রমণের সব ধরনের সুবিধা পাবেন।

পাসপোর্ট নবায়নের জন্য নওয়াজ শরিফ এখনো আবেদন করেননি।

সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে চিকিৎসার জন্য জামিন নিয়ে ১৮০ দিনের ভিসার মেয়াদে যুক্তরাজ্যে যান নওয়াজ শরিফ। যার মেয়াদ ইতোমধ্যে ফুরিয়েছে। ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদন ঝুলে আছে।

১৯৯০ থেকে ১৯৯২, ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ৭১ বছর বয়সী নওয়াজ শরিফ।

তার সরকারের প্রথম মেয়াদ শেষ হয় দুর্নীতির অভিযোগে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা নিয়ে পড়েন সামরিক অভ্যুত্থানের কবলে।

২০১৭ সালে পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি এবং আরও তিনটি দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত নওয়াজ শরিফকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। দুর্নীতির তিনটি অভিযোগের মধ্যে দুটিতে দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। একটির সাজা পরবর্তীতে স্থগিত করা হয়।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.