ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করে জালিয়াতি করে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিত একটি চক্র। অবশেষে এক রোহিঙ্গাসহ চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তারা হলেন- হাবিব উল্লাহ ওরফে আবু হোজাইফা ওরফে আবু বক্কর (৪৯), মঞ্জু মোর্শেদ (২৯), সাফায়েত আহমেদ সাহিদ (৩২), সামিউল হক ওরফে রাজু, নুর আলম (২৭), আবেদ হোসেন (২৭) ও রিয়াজুল হক ওরফে রিয়াজ (১৯)। তাদের মধ্যে রিয়াজ রোহিঙ্গা নাগরিক।
এসময় তাদের কাছ থেকে ৯টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ৩টি পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও ৩টি পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ উদ্ধার করা হয়। চক্রটির প্রধান হাবিব উল্লাহ ওরফে আবু হোজাইফা ওরফে আবু বক্কর।
গত মঙ্গলবার দিনভর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি জানান, সম্প্রতি আশুলিয়া থানায় এক নারীর পাসপোর্ট আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে মাঠে যায় ঢাকা জেলা পুলিশের এসবি শাখার এক সদস্য। পরে তিনি গিয়ে দেখতে পান সেই ঠিকানায় ওই নামে কোনো নারী থাকেন না। কিন্তু তার হয়ে আবেদ নামে এক ব্যক্তি কাগজপত্র নিয়ে এসেছেন। বিষয়টি সন্দেহ হয়। এরপর তাকে আটক করা হলে তিনি স্বীকার করে রাজু নামে এক ব্যক্তির হয়ে তিনি এ কাজটি করছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেই আবেদ পুলিশকে জানায় যে, ফাতেমা নামে সেই নারীর তিনি কেউ হন না। মূলত রাজুর নির্দেশে তিনি কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন। কিন্তু সেই আবেদকে ছাড়িয়ে নিতে রাজু তার সহযোগী নুর আলমকে পাঠান। এসময় নুর আলমকেও আটক করা হয়। পরে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা পাসপোর্ট জালিয়াতি চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করে। তাদের এই চক্রটি দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা নাগরিককে জালিয়াতি করে পাসপোর্ট দিয়ে আসছিল। অবশেষে চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
তিনি আরও জানান, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গার ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছিল। যা ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে বিদেশে গমন করছে।