লিবিয়া থেকে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ভোরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছান। দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় বিভিন্ন ধরনের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা এসব বাংলাদেশিকে সরকারের উদ্যোগে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সমন্বিত সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সোমবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ত্রিপোলি থেকে ছেড়ে আসা বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটে থাকা ১৭৪ জন বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা।

দেশে ফেরা ব্যক্তিদের অধিকাংশই উন্নত জীবনের আশায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সেখানে গিয়ে অনেকেই মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন। তাঁদের মধ্যে অনেকে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক শ্রম এবং অমানবিক জীবনযাপনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। দেশে ফিরে তাঁরা নিজেদের দুর্ভোগের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন।

প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আইওএমের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য পথখরচ, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে ফিরে পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনও অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও যেসব বাংলাদেশি দেশে ফিরতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করতে পারবেন, তাঁদের ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকার আবারও অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.