বিমানে এসি বিকল, ভোগান্তিতে ইউএস-বাংলার ১৮৮ যাত্রী

ঢাকা থেকে ভারতের চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি নিয়েই যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা থেকে ভারতের চেন্নাইগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটি নিয়েই যাত্রী পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে। গুমোট ও প্রচণ্ড গরম পরিবেশে প্রায় ১৮৮ জন যাত্রীকে নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করায় মাঝ আকাশে এক হাঁপানি রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন দেওয়া হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে বেসরকারি বিমান সংস্থাটি।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস-বাংলার বিএস-২০৫ ফ্লাইটটি গত রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চেন্নাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিভিন্ন কারিগরি কারণে ফ্লাইটটি প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা বিলম্বিত হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে উড্ডয়ন করে এবং ভারতের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টায় চেন্নাই পৌঁছায়।

যাত্রীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বিমানে উঠানো হলেও দীর্ঘ সময় বিমানটি রানওয়েতে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কেবিনের এসি কার্যকর না থাকায় ভেতরে অসহনীয় গরম ও গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক যাত্রী টিকিট, লিফলেট ও কাগজ দিয়ে হাতপাখার মতো বাতাস করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ফ্লাইটের যাত্রী সামিয়া রেজা শতাব্দী জানান, তিনি হাঁপানিতে আক্রান্ত বোনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চেন্নাই নিয়ে যাচ্ছিলেন। বিমানের ভেতরের অতিরিক্ত গরমে তার বোনের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে কেবিন ক্রুরা তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করেন। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী টিটু সাহা বলেন, অধিকাংশ যাত্রীই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন। অথচ এসি বিকল অবস্থায় তাদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ভ্রমণ করতে হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, কেবিন ক্রুরা বারবার এসি ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। তবুও বিকল্প উড়োজাহাজের ব্যবস্থা না করে একই বিমানেই ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এসিতে কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছে। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ও অভ্যন্তরীণ কারণে ফ্লাইট ছাড়তে বিলম্ব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসি পুরোপুরি বন্ধ ছিল না, তবে এটি শতভাগ কার্যকরও ছিল না।

তবে যাত্রীদের প্রশ্ন, এসি স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে কেন বিকল্প বিমান দেওয়া হয়নি বা ফ্লাইট স্থগিত করা হয়নি। বিশেষ করে অসুস্থ যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করে এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে এভিয়েশন খাতে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। যাত্রীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN