টেকসই উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সম্মান পেল ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স

ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শ্রম পদক ও প্রশংসাপত্র অর্জন করেছে।

ভিয়েতনামের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স টেকসই উন্নয়ন, লিঙ্গ সমতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণীর শ্রম পদকপ্রশংসাপত্র অর্জন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের উপরাষ্ট্রপতি ভো থি আন জুয়ান বিমান সংস্থাটির নেতৃত্বের হাতে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়ন, নারীর অগ্রগতি নিশ্চিতকরণ এবং লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের জন্য ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা, নেতৃত্ব এবং নারী উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রশংসাপত্র লাভ করে।

ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স শুধু একটি বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা নয়, বরং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও মানবিক মিশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাষ্ট্রীয় সফর, বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা পরিবহনের মতো দায়িত্ব নিয়মিত পালন করে আসছে সংস্থাটি।

পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ডাং নগোক হোয়া বলেন, এই সম্মাননা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মীর কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি। তিনি বলেন, এই অর্জন জাতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে, সেবার মান উন্নত করতে এবং দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখতে প্রতিষ্ঠানটিকে অনুপ্রাণিত করবে।

টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। নতুন প্রজন্মের জ্বালানি-সাশ্রয়ী বিমান সংযোজন, উড়ানপথ অপটিমাইজেশন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগের পাশাপাশি সংস্থাটি ভিয়েতনামের প্রথম এয়ারলাইন হিসেবে টেকসই বিমান জ্বালানি (SAF) ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে নেট-শূন্য কার্বন নিঃসরণ অর্জন।

একই সঙ্গে ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে পরিচালন ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রীসেবায় বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ডিজিটাল প্রসেস চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করা হচ্ছে।

মানবসম্পদ উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ৫৪ শতাংশ নারী। নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

বর্তমানে ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স ২২টি অভ্যন্তরীণ এবং ২২টি দেশের ৪১টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে মোট ১২০টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠার ৩১ বছর পরও সংস্থাটি ভিয়েতনামের অর্থনীতি, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.

EN