মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ফ্লাইট স্থগিত বাড়াল আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে। উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এয়ারলাইন্স ফ্লাইট স্থগিত, রুট পরিবর্তন এবং পরিষেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সর্বশেষ ফ্লাইট তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিমান নিরাপত্তা সংস্থা (EASA) ২৯ জুলাই পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে হামলার পর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক বড় এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট পুনরায় চালুর সময় পিছিয়ে দিয়েছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স সিঙ্গাপুর-দুবাই রুটে ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্কুট সিঙ্গাপুর-জেদ্দা রুটে ফ্লাইট ২৭ জুলাই পর্যন্ত বাতিল করেছে।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজও মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে। দুবাই, তেল আবিব, বাহরাইন ও আম্মান রুটে ফ্লাইট ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এছাড়া দোহা ও রিয়াদ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং জেদ্দা রুটে পরিষেবা স্থায়ীভাবে বন্ধ করেছে এয়ারলাইন্সটি।
অন্যদিকে তুর্কিশ এয়ারলাইন্স আবুধাবি, দুবাই, বৈরুত, দামেস্ক ও আম্মানে ফ্লাইট পুনরায় চালু করলেও ইরানগামী সব ফ্লাইট এখনও স্থগিত রয়েছে। এয়ার ফ্রান্স বৈরুত রুটে ফ্লাইট ২০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে।
কেএলএম, লুফথানসা, সুইস, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্স, ব্রাসেলস এয়ারলাইন্স, ফিনএয়ার, এয়ারবাল্টিক, এয়ার কানাডা এবং ক্যাথে প্যাসিফিক-সহ আরও অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত বা সীমিত করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও ইসরায়েলের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বড় এয়ারলাইন্স ধীরে ধীরে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক করছে। এমিরেটস বর্তমানে ৭২টি দেশের ১৩৭টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতিহাদ এয়ারওয়েজ প্রতিদিন ৩০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং চলতি গ্রীষ্মে যাত্রী চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে।
কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে ১৬০টির বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে এবং ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে নতুন রুট ও অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত করছে। ফ্লাইদুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, ওমান এয়ার, গালফ এয়ার, সাউদিয়া, ফ্লাইনাস এবং কুয়েত এয়ারওয়েজও ধাপে ধাপে তাদের পরিষেবা বাড়াচ্ছে, যদিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কিছু রুটে এখনো বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে আরও সূচি পরিবর্তন, রুট পুনর্বিন্যাস এবং ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যাত্রীদের বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনা ও ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
