শাহজালালে দুই যাত্রীর লাগেজে ১৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে মোট ১৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) সি-শিফটের সদস্যরা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর লাগেজ তল্লাশি করে মোট ১৫ লিটার বিদেশি মদ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (সিআইআইডি) সি-শিফটের সদস্যরা। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

বুধবার (১২ আগস্ট) দিল্লি থেকে ঢাকায় আসা এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-২৩৭ ফ্লাইটের যাত্রীদের ওপর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে সন্দেহভাজন দুই যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিমানটি ঢাকায় অবতরণের পর যাত্রীদের লাগেজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দুই যাত্রীর ব্যাগেজে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ পাওয়া যায়।

অভিযানের সময় যাত্রী প্রশান্ত লাল দাসের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ১০ লিটার বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। একই ফ্লাইটে আসা আরেক যাত্রী জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাগেজ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আরও ৫ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়। সব মিলিয়ে দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১৫ লিটার মদ জব্দ করা হয়।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর জানিয়েছে, জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ টাকা। তবে এসব মদ কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিমানবন্দর দিয়ে মাদক, শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্য ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রীর প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজের ওপর তথ্যভিত্তিক নজরদারি ও তল্লাশি করা হয়ে থাকে। এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চোরাচালান ও অবৈধভাবে পণ্য আনার চেষ্টা প্রতিরোধে সিআইআইডির গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাতে কোনো ব্যক্তি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশি মদ বা অন্যান্য নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য দেশে আনতে না পারেন, সে বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে, দুই যাত্রীর কাছ থেকে জব্দ করা বিদেশি মদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও শুল্ক ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশি এবং চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তাও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.