বড় ড্রোন হামলা ঠেকাতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডে বড় আকারের ড্রোন ঝাঁকের হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডে বড় আকারের ড্রোন ঝাঁকের হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি বলে স্বীকার করেছেন দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা। নর্দার্ন কমান্ড (নর্থকম) ও নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ডের (নোরাড) ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড জানিয়েছেন, সম্ভাব্য হামলার স্থান ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ড্রোন শনাক্ত করার পর্যাপ্ত সেন্সর এবং সেগুলো ধ্বংস করার বিশেষায়িত অস্ত্র—দুটোরই ঘাটতি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক ড্রোন প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্লাইট কন্ট্রোলার, মোটর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সহজেই বাণিজ্যিক বাজার থেকে সংগ্রহ করা যায়। এসব প্রযুক্তি সামরিক ব্যবহারের জন্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত না হওয়ায় সাধারণ ড্রোনকেও তুলনামূলক কম খরচে উন্নত সক্ষমতার প্ল্যাটফর্মে রূপ দেওয়া সম্ভব।
এ ধরনের ড্রোনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো ছোট আকারের হওয়ায় প্রচলিত রাডার বা নজরদারি ব্যবস্থায় শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করা হলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ড্রোনের হুমকি যে শুধু সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ, তা নয়। বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ার পর প্রায় ৩৩ ঘণ্টা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এতে প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল হয় এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রেও বিমানবন্দরের আশপাশে অননুমোদিত ড্রোন শনাক্তের ঘটনা বাড়ছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এমন ৩২০টি ঘটনা নথিভুক্ত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা বেড়ে ৬০১টিতে দাঁড়িয়েছে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ড্রোন উৎক্ষেপণের জন্য ছদ্মবেশী ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রবণতা। সাধারণ শিপিং কনটেইনার বা বাণিজ্যিক যানবাহনের আড়ালে ড্রোন লুকিয়ে রাখা এবং সেখান থেকে দ্রুত উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
জার্মান প্রতিষ্ঠান রাইনমেটাল জুলাইয়ে এমন একটি ড্রোন ব্যবস্থা প্রদর্শন করেছে, যা চলন্ত ট্রাকের কনটেইনার থেকে উৎক্ষেপণ করা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও ঝাঁকবদ্ধ ড্রোন মোকাবিলার পাশাপাশি নিজস্ব ড্রোন-ঝাঁক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। DZYNE-এর ‘ব্লিটজ’ ব্যবস্থার মতো প্রযুক্তি একটি কনটেইনার থেকে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন মোতায়েন করতে সক্ষম।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু ড্রোন ধ্বংস করা নয়; বরং দ্রুত শনাক্ত করা, হুমকির মাত্রা নির্ধারণ এবং বিপুলসংখ্যক ছোট ড্রোনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা।