শাহজালালে হুমকি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে মামলা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। লাগেজ ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লাগেজ ট্রলি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির একপর্যায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তিনি তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ এবং ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’—এ ধরনের কথা বলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এ সময় নিরাপত্তা সুপারভাইজার কামাল উদ্দিনকে লাঞ্ছিত করা হয়। পাশাপাশি পবিত্র জমজমের পানির বোতলেরও ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, লাগেজ ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করেই মূলত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাত্রীদের লাগেজ পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত ট্রলি না থাকায় বিমানবন্দরের ভেতরে সাময়িক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মামলায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যাত্রীসেবা ও বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগকে মামলার অন্যতম বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করতে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের বিষয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই হবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে লাগেজ ট্রলিসহ যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত সমস্যাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।