সৌদি আরবে আরামকোর তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালিত একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালিত একটি তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহত ব্যক্তিদের একজন ফিলিপাইনের এবং অন্যজন নেপালের নাগরিক। আহত দুজনের মধ্যে একজন পাকিস্তানি ও অন্যজন ভারতীয় নাগরিক বলে জানিয়েছে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
বুধবার তেল স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিহত করে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ড্রোনটি ধ্বংস করার পর এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার পেছনে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হামলার দায় সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলা ও সেগুলো প্রতিহত করার ঘটনায় হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। গত মাসেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একটি ড্রোন প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সৌদি আরবে বসবাসরত এক ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হন। চলতি মাসের শুরুর দিকেও দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ভবনটিতে ছোট আকারের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সৌদি আরবের বিমান চলাচল খাতেও। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের একাধিক হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গত ১০ অক্টোবর থেকে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরটি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদিয়া ও ফ্লাইনাস বিমানবন্দরটিতে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস এখনো তাদের ফ্লাইট বাতিল রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুফথানসা ও এয়ার ফ্রান্সসহ কয়েকটি বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিষেবা বাতিল রেখেছে। ফলে সৌদি আরবগামী ও দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিমানবন্দরকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং যাত্রী পরিবহনে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা নির্ভর করছে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।