৪২ হাজার বছর আগের বড়শি্র খোঁজ

আদিম মানুষ যে অচিরেই মাছ শিকার করতে শিখে ফেলেছিল তার বড় প্রমাণ মেলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা যখন প্রায় ৩৫ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দের বড়শির খোঁজ পান।

এগুলো মূলত জীবজন্তুর হাড়, শক্ত ঝিনুক, পশুর শিং আর গাছের শক্ত ডালপালা দিয়েই তৈরি করা হতো। প্রাথমিক অবস্থায় অবশ্য শুধু গাছের ডালপালা দিয়েই বড়শি বানিয়ে মাছ ধরতে শিখেছিল তারা।

মাছ শিকারের ক্ষেত্রে হয়তো ডালপালার বড়শিই বেশি সুবিধাজনক ছিল। কেননা সত্তরের দশকেও কাঠনির্মিত বড়শি ব্যবহৃত হতো জলজ প্রাণী শিকারের কাজে। ধীরে ধীরে সাধারণ বড়শিকে কাঁটাযুক্ত বড়শিতে পরিণত করে খাবার তালিকায় নিয়মিত মাছের পদ নিশ্চিত করে ফেলে তারা। ক্যানবেরার অস্ট্রেলীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদরা দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার পূর্ব তিমুরে চুনাপাথরে তৈরি জেরিমালাই নামক এক গুহায় এ ধরনের বড়শিসহ বিশাল আকারের টুনা জাতীয় মাছের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।

প্রথমে ঝিনুকের শক্ত খোলের তৈরি দুটো ভাঙা বড়শি নজরে এলেও পরে এই গুহা থেকে ৩৮ হাজারেরও বেশি মাছের কাঁটা আবিষ্কৃত হয় এবং পরীক্ষাগারে কাঁটাগুলোর বয়স প্রায় ৪২ হাজার বছর বলে নির্ণীত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, ৪২ হাজার বছর আগেও আদিম মানুষ বড়শি দিয়ে মাছ শিকারে পটু ছিল।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.