ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইট বাড়ানোর আশ্বাস ইতালির রাষ্ট্রদূতের
ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো।
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ঢাকা-রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো। সোমবার (২২ জুন) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দক্ষ জনবল উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে মন্ত্রী ইতালিতে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীর যাতায়াত সহজ করতে ঢাকা-রোম রুটে বিমানের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত অ্যান্টোনিও আলেসান্দ্রো জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ইতালি ইতিবাচকভাবে কাজ করবে এবং ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ইতালির রাষ্ট্রদূত দেশটির অর্থনীতিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি কর্মীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন এবং তাদের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা ইতালির বিভিন্ন খাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছেন।
বৈঠকে বিমানবন্দর পরিচালনা ও নিরাপত্তা খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত জানান, ইতালির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দ্য এজ কোম্পানি বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর জন্য আধুনিক বার্ড কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিসিএমএস) স্থাপনে আগ্রহী। এছাড়া ইতালির ফ্লাইওন অ্যারো বাংলাদেশি বিমান প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিতে একটি প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
আফরোজা খানম বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই খাতের আধুনিকায়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জনবল উন্নয়নে ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে সরকার আগ্রহী। একই সঙ্গে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়নে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, একই দিনে মন্ত্রী সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এসএটিএসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে এসএটিএস হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনার আগ্রহ প্রকাশ করে। সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ইতালি ও সিঙ্গাপুরের মতো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আগ্রহ বাংলাদেশের বিমান খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
