কিয়েভে বিমান হামলার সাইরেন বাজছে, বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দাদের শুক্রবার ভোরে বিমান হামলার আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালানোর একদিন পর আবার হামলা শুরু করেছে রাশিয়া ।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার কিছু পরে কিয়েভের স্থানীয় শহর সরকার তার টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ চ্যানেলে বিমান হামলার সাইরেন সম্পর্কে একটি সতর্কতা জারি করে এবং বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানায়।

কিয়েভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেকস্কি কুলেবা টেলিগ্রামে বলেছেন, রাশিয়া ড্রোন হামলা চলছে, সর্তক থাকুন।

রয়টার্সের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কিয়েভের ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ এবং বিমান বিধ্বংসী বিষ্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানের তৈরি ১৬টি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো বলেছেন, শহরের ৭টি এলাকায় হামলা হয়েছে এবং একটি প্রশাসনিক ভবন আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

এর আগে শুক্রবার সকালে ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ রিপোর্টে বলেছে, রাশিয়া গত ২৪ ঘন্টায় একাধিক রকেট লঞ্চ সিস্টেম থেকে ৮৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ৩৫টি বিমান হামলা এবং ৬৩টি হামলা চালিয়েছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মস্কোর বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের বোমা বিধ্বস্ত শহর বাখমুতের আশেপাশে ২০টি বসতিতে গোলা বর্ষণ করেছে, যেখানে ভয়ঙ্কর লড়াই চলছে। এছাড়াও খেরসন এবং জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে ২৫টিরও বেশি বসতিতেও হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে বেলারুশ বলেছে, তারা তাদের ভূখণ্ডে ইউক্রেনের একটি বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এবিষয়ে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলারুশিয়ান ভূখণ্ডে এস-৩০০ রকেট আসার কিয়েভকে সম্পূর্ণ তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে।

বেলারুশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনাতোলি গ্লাজ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বেলারুশিয়ান পক্ষ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করে। তিনি ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বৃহস্পতিবারের ব্যাপক বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ অঞ্চল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, যেসব এলাকায় ক্ষমতা হারানো “বিশেষত কঠিন” ছিল তার মধ্যে রাজধানী কিয়েভ, দক্ষিণে ওডেসা এবং খেরসন এবং আশেপাশের অঞ্চল এবং পোল্যান্ডের সাথে পশ্চিম সীমান্তের কাছে লভিভের আশেপাশের এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আমাদের বীরত্বপূর্ণ বিমান বিধ্বংসী বন্দুকধারী এবং বিমান প্রতিরক্ষার সমানভাবে জবাব দিচ্ছে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার বিমান হামলায় লক্ষাধিক মানুষকে প্রায়ই হিমাঙ্কের তাপমাত্রায় বিদ্যুৎ এবং উত্তাপহীন রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.