ইউরোপে আকাশপথে যাত্রীসেবার খরচ বাড়ছে

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশ দূষণ রোধে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, দেশ। এরই মধ্যে অনেকে তা বাস্তবায়ন করতেও শুরু করেছে। আকাশপথের দূষণ কমাতে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এতে কার্বন নিঃসরণের বিপরীতে তা রোধে নেয়া পদক্ষেপের খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যবহারের নির্দেশনাসহ বেশকিছু নিয়ম বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এসব বাস্তবায়ন করতে গেলে খরচ বাড়বে এয়ারলাইনসগুলোর। এতে বাড়বে আকাশপথে যোগাযোগের টিকিটের দাম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্পমূল্যে আকাশপথে ভ্রমণের দিন শেষ হতে চলেছে। ইইউর নিয়ম যদি পাস হয় তবে তা মেনে চলতে হলে কোনো এয়ারলাইনসের পক্ষেই আর গ্রাহকদের জন্য স্বল্পমূল্যে টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এমন একটি সময়ে ইইউর নিয়ম মেনে চলার বাধ্যবাধকতা আরোপ হতে যাচ্ছে, যখন কেবলই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে খাতটি। নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারীর কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর অন্যতম এয়ারলাইনস খাত। ঠিক যে সময় বিধিনিষেধের বেড়াজাল ছিঁড়ে খাতটিতে পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছে, চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে, সে সময়ই খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলো।

সম্প্রতি এক সম্মেলনে এয়ারপোর্টস ইন্ডাস্ট্রি বডি এসিআই ইউরোপের মহাপরিচালক অলিভিয়ার জ্যাকোভ্যাক বলেন, ‘ইইউ একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এটি গোটা খাতের অর্থনীতি বদলে দেবে। ফলে এয়ারলাইনসগুলোর খরচ বাড়বে, টিকিটের দাম বাড়বে এবং চাহিদা কমবে।’

ইইউ চায় অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী খাতগুলো যেন দূষণের বিপরীতে আরো বেশি অর্থ ব্যয় করে। যেন সেই অর্থ দিয়েই দূষণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা করা যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এভিয়েশন খাদের কার্বন নিঃসরণের ওপর বাড়তি শুল্কের কারণে রিটার্ন টিকিটের দামে আরো ১০ ইউরো যুক্ত হতে পারে।

ইইউর নীতিনির্ধারকরা এরই মধ্যে কার্বন নিঃসরণের বিপরীতে মূল্য ধার্য করেছেন। যার মাধ্যমে দূষণ প্রতিরোধী ব্যবস্থা চালু করা যায়। অর্থাৎ কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে এয়ারলাইনসগুলো যে ক্ষতি করবে, তা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অর্থও জোগান দেবে তারা। এছাড়া জলবায়ু সহনশীল জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে চাপ দেয়া হচ্ছে। যদিও এসবের খরচ প্রথাগত জ্বালানির চেয়ে বেশি।

এর আগে রায়ানএয়ারের প্রধান মাইকেল ও লিয়ারি বলেছিলেন, ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত কর ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে আকাশপথে ভ্রমণের ভাড়া বাড়বে। স্বল্প খরচে আকাশ ভ্রমণের দিন শেষ হতে চলেছে। কর বা জ্বালানির দাম যেটাই বাড়ানো হোক না কেন, তা গিয়ে পড়বে ক্রেতার ওপরেই। কারণে টিকিটের দাম সমন্বয় করেই কোম্পানিগুলোকে এ খরচ নির্বাহ করতে হবে।

ডাচ ব্যাংকের বিশ্লেষক জেইমে রোবোথাম এক পূর্বাভাসে বলেন, ‘‌রায়ানএয়ার ইজিজেট ও উইক এয়ারকে ২০২৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৫০ কোটি ইউরো কার্বন অ্যালাউন্স হিসেবে দিতে হবে।’

এ বিষয়ে ইজিজেট বলছে, ভবিষ্যতের দাম কেমন হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। তবে শূন্য কার্বন নিঃসরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে অবশ্যই সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.