দীর্ঘ ছয় বছর পর প্রতিবেশী দুই দেশ চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হয়েছে। চীনের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা এয়ার চায়না আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে তাদের যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরতির অবসান ঘটালো। মূলত ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর উত্তর কোরিয়া তাদের সীমান্ত কঠোরভাবে সিল করে দিয়েছিল, যার ফলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যাতায়াত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যদিও গত বছর উত্তর কোরিয়ার নিজস্ব বিমান সংস্থা ‘এয়ার কোরিও’ কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল, তবে চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা হিসেবে ‘এয়ার চায়না’র এই প্রত্যাবর্তন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার সকালে বেইজিং থেকে ছেড়ে আসা এয়ার চায়নার প্রথম ফ্লাইটটি যখন পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন সেখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উত্তর কোরিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ওয়াং ইয়াজুন এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কূটনীতিকরা সশরীরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। এই ফ্লাইট পরিষেবা চালুর পাশাপাশি সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলও শুরু হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে উত্তর কোরিয়া এখন বিশ্ববাজার ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেদের ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর রাশিয়ার সঙ্গেও সরাসরি বিমান ও ট্রেন যোগাযোগ শুরু করেছিল কিম জং উনের দেশ। এবার চীনের সঙ্গে পুরোদমে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্যমতে, এখন থেকে নির্ধারিত তফশিল অনুযায়ী দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হবে, যা ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের যাতায়াতকে আরও সহজতর করে তুলবে।
আরও খবর
