১০ দিনের ব্যবধানে জেট ফুয়েলের দামে বড় লাফ এক লিটারে বেড়েছে ৮২ টাকা

মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে দেশে জেট ফুয়েলের দামে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন ঘটেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট এ-১ জ্বালানির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা, যা ৮ মার্চ নির্ধারিত ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে প্রায় ৮২ টাকা বেশি। আন্তর্জাতিক রুটেও একই সময়ে জ্বালানির মূল্য ডলারে বড় বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত স্বল্প সময়ে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বিমান খাতের ব্যয় কাঠামোতে বড় চাপ তৈরি করবে এবং এর প্রভাব যাত্রী ভাড়ায় পড়তে পারে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কমিশনের পূর্বের আদেশ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের প্ল্যাটস রেট, ডলারের বিনিময় হার এবং আমদানি ব্যয় বিবেচনায় মাসভিত্তিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ মার্চ থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের গড় মূল্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়ে একটি কমিটি মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ১৮ মার্চ নতুন দর কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকসহ জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৯৪ টাকা ১৮ পয়সা। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১ দশমিক ২৬৮৯ মার্কিন ডলার। এই দর ১৮ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

এর আগে ৮ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ধাপে ধাপে দাম বাড়লেও সর্বশেষ ১০ দিনের ব্যবধানে বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।

আন্তর্জাতিক রুটেও একই ধারা দেখা গেছে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ০ দশমিক ৭৩৮৪ মার্কিন ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ০ দশমিক ৬২৫৭ ডলার। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৬৮৯ ডলার—যা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়াও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বিমান সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, জেট ফুয়েলের এ ধরনের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি অপারেশনাল খরচ বাড়িয়ে দেবে। এতে টিকিটের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটে।

বিইআরসি বলছে, তাদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও একই প্রক্রিয়ায় প্রতি মাসে দাম সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। #

 

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.