জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক

উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার রুটগুলোতে বিমান ভাড়া রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আকস্মিক অস্থিরতার কারণে বিমান চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং জেট ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক এয়ারলাইন্স তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টিকিটের দামের ওপর। বিশ্বজুড়ে বিমানভাড়া এখন আকাশচুম্বী।
এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ এলাকায় সৃষ্ট সামরিক উত্তেজনা এবং জাহাজ চলাচলে নতুন বিধিনিষেধ। জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য বিশ্বের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ২০২৬ সালের মার্চের শুরুতেই ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল এবং এলএনজি-র দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। কাতার থেকে এলএনজি রপ্তানি কমে যাওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্যাংকার চলাচলে সীমাবদ্ধতা আসায় ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল।
যদিও প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তবুও এলএনজি সংকটের ফলে সামগ্রিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এর ফলে জেট ফুয়েল পরিশোধন এবং পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বিমান চলাচল খাতের বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের পর এয়ারলাইন্সগুলো এবারই সবচেয়ে বড় ‘ফুয়েল শক’ বা জ্বালানি বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
ফেব্রুয়ারির শুরুর তুলনায় কোনো কোনো বাণিজ্যিক কেন্দ্রে জেট ফুয়েলের দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানে এই প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতার পর হঠাৎ এমন দাম বৃদ্ধি এয়ারলাইন্সগুলোকে বিপাকে ফেলেছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীদের এখন অনেক বেশি টাকা খরচ করে বিমানের টিকিট কিনতে হচ্ছে।
আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.