জুনে বিশ্বজুড়ে চালু হচ্ছে ৫০টি নতুন আন্তর্জাতিক বিমান রুট
বিশ্বব্যাপী বিমান ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালের জুন মাসে বিভিন্ন বিমান সংস্থা মোট ৫০টি নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু
বিশ্বব্যাপী বিমান ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালের জুন মাসে বিভিন্ন বিমান সংস্থা মোট ৫০টি নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করছে। নতুন রুটগুলোর মধ্যে ইউরোপ-এশিয়া সংযোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতের দ্রুত পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো মালয়েশিয়ার স্বল্পমূল্যের দীর্ঘ-পাল্লার বিমান সংস্থা এয়ারএশিয়া এক্স-এর যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রত্যাবর্তন। আগামী ২৬ জুন থেকে সংস্থাটি কুয়ালালামপুর ও লন্ডন গ্যাটউইকের মধ্যে বাহরাইন হয়ে দৈনিক ফ্লাইট চালু করবে। ২০১২ সালে ইউরোপীয় কার্যক্রম বন্ধ করার পর এটি হবে যুক্তরাজ্যে এয়ারএশিয়া এক্সের প্রথম ফ্লাইট। এই রুটের মাধ্যমে সংস্থাটি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে নতুন সংযোগ গড়ে তুলতে চায়।
এদিকে চীনের বিমান সংস্থাগুলোও ইউরোপে তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্স ১৮ জুন থেকে সাংহাই ও জুরিখের মধ্যে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট চালু করবে। একই সঙ্গে ছয় বছর বিরতির পর সাংহাই-স্টকহোম রুটও পুনরায় চালু করা হচ্ছে। এছাড়া এয়ার চায়না বেইজিং ডাক্সিং থেকে মিলান এবং বেইজিং ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স বেইজিং থেকে লিসবন রুট চালু করছে। চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সও জার্মানিতে তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছে।
ভারত ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধ্যে বিমান যোগাযোগেও নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে। এসএএস স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স ১৭ বছর পর ভারতে ফিরছে। ২ জুন থেকে কোপেনহেগেন ও মুম্বাইয়ের মধ্যে সপ্তাহে পাঁচটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি। এটি হবে এই দুই শহরের মধ্যে প্রথম ননস্টপ বিমান সংযোগ।
উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার মধ্যেও নতুন রুট চালু হচ্ছে। তাইওয়ানের ইভা এয়ার জুন মাসে তাইপেই ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করবে। এর ফলে প্রথমবারের মতো কোনো তাইওয়ানি বিমান সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী অঞ্চলে সরাসরি সেবা দেবে।
কানাডার বিমান সংস্থাগুলোও ইউরোপ ও আফ্রিকায় নতুন রুট যুক্ত করছে। এয়ার কানাডা মন্ট্রিয়াল থেকে স্পেনের পালমা দে মায়োরকা, ফ্রান্সের নঁত এবং বেলজিয়ামের ব্রাসেলস রুট চালু করছে। অন্যদিকে এয়ার ট্রানস্যাট মন্ট্রিয়াল-ডাকার রুট চালু করে কানাডা ও সাব-সাহারান আফ্রিকার মধ্যে একমাত্র সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপন করতে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব রুট চালুর মাধ্যমে বিমান সংস্থাগুলো মহামারির পর পুনরুদ্ধার হওয়া ভ্রমণ বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং বৈশ্বিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
