আজ থেকে তেহরান-দুবাই রুটে নিয়মিত ফ্লাইট শুরু
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ বিরতির পর আজ সোমবার (২৯ জুন) থেকে আবারও চালু হচ্ছে ইরানের রাজধানী তেহরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান রামিন কাশেফাজার জানান, তেহরান-দুবাই রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সেপেহরান এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইটটি তেহরান থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। যাত্রীরা ইতোমধ্যেই এয়ারলাইনসটির ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। ওই সময় ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বেশ কয়েক দফায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। সংঘাতের শুরুর দিকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যাত্রীদের অপেক্ষার স্থানের কাছাকাছি একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ইরানের দাবি, তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং বেসামরিক স্থাপনা বা সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করা হয়নি। তবে ওই সংঘাতের প্রভাব পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমান চলাচলে পড়ে এবং বহু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে হয়।
বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও এই সংঘাতের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন সময়ে বিমানবন্দরটির আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, যা আঞ্চলিক বিমান পরিবহন খাতে বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।
গত ১৫ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করে। যদিও মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে, তবুও উভয় পক্ষ স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ৬০ দিন আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান-দুবাই রুটে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়া শুধু দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ পুনঃস্থাপনেরই প্রতীক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। এর ফলে ব্যবসা, পর্যটন এবং যাত্রী পরিবহন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
