আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা পাচার ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের

আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা পাচার ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের

 

মুজিবুর রহমান মাসুদ, যুক্তরাষ্ট্র (নিউইয়র্ক)

২৯ জুলাই ২০২৬:
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সংকট মোকাবিলা এবং আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরে মানবপাচার ও মৃত্যুর ঘটনা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রোহিঙ্গাদের রাষ্ট্রহীনতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতির কারণে মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ছে, যার ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছেন বহু মানুষ।

জাতিসংঘ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা করা ৫০০ জনের বেশি মানুষ বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব নৌযানে বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা, যাদের মধ্যে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে যাওয়া লোকজনও ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা করেন। এদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমুদ্রপথে যাত্রাকারীদের প্রায় ৬৬ শতাংশই ছিলেন নারী ও শিশু। আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর রুটে প্রতি সাতজনের একজন নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন, যা বিশ্বের শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ মৃত্যুহার।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগের অভাব, আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ কম থাকায় বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের মানবপাচারের ঝুঁকি বাড়ছে।

তারা আরও বলেন, শরণার্থী শিবিরে থাকা নারী ও কিশোরীরা মানবপাচার ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রায় চারজন নারী ও কিশোরীর মধ্যে একজন এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানান, মানবপাচারকারী চক্র, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী নেটওয়ার্কগুলো চাকরি, শিক্ষা বা বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের টার্গেট করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেককে কয়েকদিন পর্যন্ত থানায় আটক রাখা হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরিবারের সদস্য হারানো বা নিখোঁজ হওয়ার মতো ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেলেও পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা, মানসিক সহায়তা ও চিকিৎসা সুবিধা পান না।

জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানবিক সংস্থাগুলো উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সহায়তা দিয়ে আসছে, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সময়মতো সহযোগিতা ও রেফারেলের ওপর তারা নির্ভরশীল। একই সঙ্গে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় তাদের সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে।

তারা মানবপাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রোহিঙ্গাদের অধিকারভিত্তিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, চলাচলের স্বাধীনতা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.