শাহজালালে স্বর্ণ চোরাচালানের নিরাপদ করিডোর
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থামছে না স্বর্ণ চোরাচালান।
হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে থামছে না স্বর্ণ চোরাচালান। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে পাচারের কৌশল। কখনো বিমানের কার্গো হোল্ড, কখনো ফলের ক্যারেট, বিমানের টয়লেট কিংবা যাত্রীর শরীরে লুকিয়ে আনা হচ্ছে স্বর্ণ। গত পাঁচ বছরে বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২ হাজার কেজি স্বর্ণ জব্দ হলেও চোরাচালানচক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ঢাকা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত শতাধিক অভিযানে প্রায় ২ হাজার কেজি স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে বৈধভাবে আমদানি করা স্বর্ণবার ও অলংকার থেকে ২ হাজার ৩৮ কোটি টাকা শুল্ক-কর আদায় হয়েছে। এ সময়ে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় ৫৪১টি মামলা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, চোরাচালানে অর্ধশতাধিক কৌশল ব্যবহার করছে চক্রটি। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার, বৈদ্যুতিক মোটর, ল্যাপটপের ব্যাটারি, ট্রলির হাতল, মানিব্যাগ, জুতা, শার্টের কলার, হুইলচেয়ার ও লকেটসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে লুকিয়ে স্বর্ণ আনার ঘটনা ধরা পড়েছে। বিভিন্ন সময় কেবিন ক্রু, পাইলট, প্রকৌশলী, ট্রলিম্যান ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরও বড় কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে। ২৮ মার্চ বিমানের একটি ফ্লাইটের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেল থেকে ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার হয়। ২ জুলাই কার্গো হোল্ড থেকে উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম স্বর্ণ। আর ১৯ জুলাই হংকং হয়ে আসা একটি কার্গো ফ্লাইটে ফলের ক্যারেট থেকে উদ্ধার করা হয় ১৬ কেজি স্বর্ণ। ১০ আগস্ট বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর থেকে একটি পরিত্যক্ত গাড়িতে পাওয়া যায় আরও ১ কেজি ৮১২ গ্রাম স্বর্ণ।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, দুবাই, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবকেন্দ্রিক চক্রে বড় ও মাঝারি পর্যায়ের বহু কারবারি সক্রিয়। বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়লে তারা রুট পরিবর্তন করছে। সম্প্রতি দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুট ব্যবহার করেও স্বর্ণ পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে যাত্রাবিরতির সময় একই ফ্লাইটে থাকা আরেক সদস্যের কাছে আকাশপথেই স্বর্ণ হস্তান্তরের অভিযোগ রয়েছে।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, শুধু বাহককে আটক করে এ অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে হবে। এজন্য কার্গো, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, নিরাপত্তা ও কাস্টমসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত নজরদারি, আধুনিক স্ক্যানিং, ঝুঁকিভিত্তিক তল্লাশি এবং কর্মকর্তাদের নিয়মিত রোটেশন জরুরি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। পুলিশ ও কাস্টমসও মূল হোতাদের শনাক্তে কাজ করছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বর্ণ চোরাচালান বন্ধে বাহকের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত মূল অর্থদাতা ও নিয়ন্ত্রকদের আইনের আওতায় আনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।