বুধবার থেকে চালু হতে পারে ঢাকা-রিয়াদ ফ্লাইট
বন্ধ থাকা ঢাকা-রিয়াদ রুটে বুধবার থেকে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে।
বন্ধ থাকা ঢাকা-রিয়াদ রুটে বুধবার থেকে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু হতে পারে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বরাতে সৌদি আরবের বিমান সংস্থা সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার একটি মিডিয়া গ্রুপে পাঠানো খুদে বার্তায় বলা হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার থেকে এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। তবে ফ্লাইট চালুর বিষয়টি এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দাম্মামসহ দেশটির কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এ রুটে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে সৌদি আরবগামী এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন রুটে এ পর্যন্ত ১৪৬টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে মোট ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। ফ্লাইট অনিশ্চয়তার কারণে অনেক যাত্রীর যাত্রার পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, জরুরি ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে সৌদি আরব যাতায়াত করতে চাওয়া যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে তাদের সব ফ্লাইট আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এই দুই রুটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে। ফলে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু হলে যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে কারও ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত জটিলতা থাকলে কিংবা জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবে যাওয়ার প্রয়োজন হলে তিনি জেদ্দা হয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। কারণ, জেদ্দা রুটে ফ্লাইট চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
একইভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রীরাও জরুরি প্রয়োজনে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে সৌদি আরবে যেতে এবং বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে ঢাকা-রিয়াদ রুটে ফ্লাইট চালু হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করবে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনজনিত ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।
