বিক্রির জন্য উপযুক্ত ক্রেতা খুঁজছে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ধনী রিচার্ড ব্র্যানসনের মালিকানাধীন ভার্জিন আমেরিকা এয়ারলাইন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে। এক্ষেত্রে কিছু অংশ বা সম্পূর্ণ এয়ারলাইনটিই বিক্রি করা হতে পারে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। খবর ব্লুমবার্গ।
ভার্জিন আমেরিকা এয়ারলাইনটি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোজুড়ে যাত্রীসেবা দিয়ে থাকে। বিভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া আগ্রহের কারণে কোম্পানিটি এরই মধ্যে পরামর্শের জন্য আর্থিক উপদেষ্টার স্মরণাপন্ন হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় আগ্রহীদের কাছ থেকে কোম্পানিটি ঠিক কী পরিমাণ অর্থের প্রস্তাব পেয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এমনকি আদৌ কোম্পানিটি বিক্রি হবে কিনা, তাও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে এ বিষয়ে কোম্পানিটির কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এয়ারলাইনটি বিক্রির সম্ভাবনার এ খবর প্রভাব ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারমূল্যের ওপর। নিউইয়র্কের শেয়ারবাজারে বুধবার দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১৩ শতাংশ বেড়ে ৩৪ ডলার ৭২ সেন্টে স্থির হয়েছে। এতে কোম্পানিটির ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ডলার। এদিন প্রতিযোগী অন্য এয়ারলাইন জেটব্লু এয়ারওয়েজ ও হাওয়াইয়ান হোল্ডিংসের শেয়ারমূল্যও বেড়েছে। দুটি কোম্পানিই এদিন লোকসান থেকে বেরিয়ে এসে লাভের মুখ দেখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে স্পিরিট এয়ারলাইনস ও আলাস্কা এয়ার গ্রুপের শেয়ারমূল্যের অবনমন মন্থর হয়েছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ভার্জিন আমেরিকা এয়ারলাইনটি ১৮ মাস আগে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের শেয়ার বাজারে ছাড়ে। শেয়ারগুলোর প্রতিটির প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৩ ডলার।
গত মাসে কোম্পানিটি ২০১৫ সালের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে কোম্পানিটির মোট আয় দেখানো হয় ২০ কোটি ১৫ লাখ ডলার। এটি ছিল কোম্পানিটির ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আয়। এছাড়া গত বছরই এয়ারলাইনটিতে সংযুক্ত হয়েছে নতুন পাঁচটি উড়োজাহাজ। এর সঙ্গে এ বছর আরো পাঁচটি যোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে ভার্জিন এয়ারের সক্ষমতা আরো ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কিন্তু এসব ছাপিয়ে এখন কোম্পানিটি বিক্রির সম্ভাবনার বিষয়টিই আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
