বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিজার্ভ চুরির পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার জোর আশার কথা বারবার বলা হলেও এবার এক ডেপুটি গভর্নর বললেন উল্টোটা। ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বললেন, রিজার্ভ থেকে বেহাত হওয়া অর্থের পুরোটা ফেরত পাওয়া নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে আরটিজিএসের ওপর আয়োজিত এক সেমিনার শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান।
এস কে সুর চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আশা করছি অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও আমাদের সহায়তা করছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তবে পুরোটা ফেরত নাও পাওয়া যেতে পারে।’
ড. আতিউর রহমান গভর্নর থাকাকালে বিভিন্ন বিষয়ে উৎসুকভাবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বললেও রিজার্ভ চুরির পর একবারের জন্যও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি সুর চৌধুরীকে। রিজার্ভ চুরির প্রায় দেড় মাস পর মুখ খুললেও স্রোতের বিপরীতে কথা বললেন এ কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে গভর্নর ফজলে কবীর উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি।
অথচ রিজার্ভ চুরির টাকা ফেরত আনার বিষয়ে যতবারই শুভংকর সাহা সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেছেন, তখনই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রক্রিয়ার কাজ করছে, তাতে চুরি যাওয়া পুরো টাকাটাই ফেরত আনার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে স্থানান্তরিত করে দুর্বৃত্তরা। এর প্রায় একমাস পরে ফিলিপাইনের ইনকোয়ারার পত্রিকায় অর্থ পাচার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি ফাঁস হয়। চুরি হওয়া রিজার্ভের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত ২০ মিলিয়র ডলারের পুরোটা এবং ফিলিপাইনে স্থানান্তরিত ৮১ মিলিয়ন ডলারের কিছু অংশ ইতোমধ্যে ফেরত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
