করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শ্রীলংকান এয়ার ও কাতার এয়ারওয়েজের দুটি বিশেষ ফ্লাইটে পাঁচ শতাধিক অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার নাগরিক বাংলাদেশ থেকে দেশের পথে রওনা হয়েছেন ।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল কামরুজ্জামান বৃহস্পতিবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, “হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৭ মিনিটে শ্রীলংকান এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার ২৮৫ জন নাগরিক নিজ দেশে রওনা হয়েছেন।”
এর আগে একই এয়ারলাইন্সে শ্রীলঙ্কা থেকে বিমানবাহিনীর ১৪ জন কর্মকর্তাসহ ৩০ জন বাংলাদেশি ফিরে এসেছেন বলে জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের পর রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের বিশেষ ফ্লাইটে ২৫৭ জন কানাডীয় নিজ দেশে রওনা দেন বলে জানান সোহেল কামরুজ্জামান।
তার আগে মঙ্গলবার কানাডার ২১৪ জন নাগরিক বাংলাদেশ ছাড়েন।
একদিন আগে ১৭ জন শিশুসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৩২৮ জন নাগরিক কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে দেশে ফিরে যান।
শুক্রবার ১২৩ জন জার্মান নাগরিক নিজেদের দেশে ফেরেন। গত সোমবার ১৭৮ জন রুশ নাগরিক ঢাকা ছাড়েন।
নিজ দেশে বিদেশীদের ফেরার ধারাবাহিকতায় গেল সপ্তাহে জাপান দূতাবাসের চার্টার করা ফ্লাইটে দেশে ফেরেন দেশটির ৩২৫ জন নাগরিক। আর দুই দফায় ৫৯১ জন মার্কিন নাগরিকও ঢাকা ছাড়েন।
এছাড়া সপ্তানখানেক আগে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি উড়োজাহাজে সে দেশের ২২৫ জন ও ভুটান সরকারের ব্যবস্থাপনায় একইভাবে তাদের ১৩৯ জন নাগরিক ফিরে যান।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গত ১৬ মার্চ থেকে যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য সব দেশ থেকে যাত্রীদের আসা বন্ধ করে বাংলাদেশ।
এরপর ২১ মার্চ থেকে ভারত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার।
ওই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশগুলোর সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটও বন্ধ হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হলে প্রথমে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়; এর পরে তা ১৪ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল করা হয়।
