করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার ঝুঁকিতে এশিয়া, সামলানো কঠিন হবে

এশিয়া করোনাভাইরাস সংক্রমণে দ্বিতীয় ধাক্কার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই বিদেশে থাকা নাগরিক ও পর্যটকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। এ পদক্ষেপই দেশগুলোর জন্য কাল হতে পারে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া দীর্ঘদিন থাকা লকডাউন লঙ্ঘন করে অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

জাপান, চীন, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান ও হংকংয়ের মতো দেশগুলোতে সংক্রমণের সংখ্যা ফের বাড়তে শুরু করেছে। বেইজিং করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের হুমকি মোকাবেলায় সাড়ে তিন কোটি লোককে পুনরায় লকডাউন করতে বাধ্য হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

কঠোর লকডাউন ব্যবস্থা শিথিল করার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরে চীনের রাজধানীতে সামাজিক দূরত্ব বাড়ানোর পদক্ষেপটির পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং অন্যান্য দেশ ভাইরাসটির দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর হুমকিতে রয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, চীনে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তন করার কোনও পরিকল্পনা নেই কারণ অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম ব্যবসায়ী অংশীদার দেশটি করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের মোকাবেলা করছে।

মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে, চীনা কূটনীতিকরা দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইউরোপের প্রায় এক ডজনেরও বেশি দেশের সাথে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, প্রয়োজনীয় কর্মী প্রেরণ ও ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরুর ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেছিলেন। তবে বেইজিংয়ের কূটনৈতিকপাড়ায় (যেখানে ১২টিরও বেশি দেশের দূতাবাস রয়েছে) কয়েকটি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য নতুন করে আক্রান্ত হওয়ায় সেই সম্ভাবনা আপাতত আর নেই।

সাংহাইয়ে জনপ্রিয় একটি শপিং অঞ্চলকে লকডাউন করা হয়েছে এবং চেকপয়েন্টগুলি বাড়ানো হয়েছে। রাশিয়ান সীমান্তের নিকটবর্তী হাইলংজিয়াং প্রদেশের তিনটি অঞ্চলকেও মাঝারি ঝুঁকি হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সাংহাইয়ের পূর্ব চীন ইউনিভার্সিটির এশিয়া প্যাসিফিক স্টাডিজ সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চেন হং বলেছেন, আরও সংক্রমণ এড়াতে অস্থায়ী পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় বা তৃতীয় তরঙ্গের ঝুঁকি। তিনি বলেছিলেন, যদিও ভাইরাসটির অনেকগুলি দিক এখনও অজানা রয়েছে, তবে আমরা এখন বুঝতে পারি যে এটি কীভাবে কাজ করে। এটি অবশ্যই একটি ভালো দিক। এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার জন্য জনগণ আরও ভালভাবে প্রস্তুত রয়েছে যা কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছে।’

সিঙ্গাপুর সিটি এবং জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ হোক্কাইডোও এর আগে ভাইরাসের সংক্রমণ কমার পর কিছুটা বিধিনিষেধ শিথিল করার পর এখন সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত সপ্তাহে হোক্কাইডোতে নতুন করে ১৩০ জন আক্রান্ত হওয়ার পর ফের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

সোমবার সিঙ্গাপুরে একদিনে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়াতেও নতুন করে বেড়েছে সংক্রমণ। বিদেশী কর্মীদের ও ছাত্রাবাসের পরীক্ষার অস্ট্রেলিয়ায় সংক্রমণের সংখ্যা আট হাজারেরও বেশি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর দেশটিতে হঠাৎ করে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনও তৈরি হয়নি। ফলে এমন কোনো চিকিৎসা এখনও মানুষের জানা নেই, যা এ রোগ ঠেকাতে পারে। আপাতত একমাত্র উপায় হলো আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

সূত্র-সিডনি মর্নিং হেরাল্ড।

আরও খবর
আপনার কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published.