সরকার ভারতের বিভিন্ন শহরে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের একে একে ফিরিয়ে আনছে । আর এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস বিমান বাংলাদেশ দিল্লি থেকে আজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে ১২৮ জন যাত্রীকে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশেষ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন শহরে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শেষ হলো। তৃতীয় পর্যায়ে আরো ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, আকাশপথে তৃতীয় পর্যায়ের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কোলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাই ছাড়াও বেঙ্গালুরু থেকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। পর্যাপ্ত যাত্রী সংখ্যা ও অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ১০ মে কোলকাতা, ১২ মে মুম্বাই, ১৩ মে বেঙ্গালুরু, ১৪ মে দিল্লি থেকে ফ্লাইট পরিচালিত হবে।
এ ছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ৮ থেকে ১০ মে এবং ১৩ থেকে ১৪ মে পাঁচটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। আগ্রহী যাত্রীদের অবিলম্বে এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রত্যেক যাত্রীর কভিড-১৯ উপসর্গমুক্ত সনদ থাকতে হবে। সকল যাত্রীকে ঢাকায় অবতরণের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে এবং বাধ্যতামূলকভাবে দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।
ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে দুই দফায় বিমান ও ইউএস-বাংলা চেন্নাই, মুম্বাই, দিল্লি ও কালকাতা থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফিরিয়ে এনেছে।
জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ২৫ মার্চ থেকে লকডাউনে পুরো ভারত সব যোগাযোগ বন্ধ। এরপর চিকিৎসা ও ব্যবসাসহ বিভিন্ন কাজে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের একটি অংশ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফিরলেও কলকাতা, চেন্নাইসহ বিভিন্ন রাজ্যে আটকা পড়েছেন কয়েক হাজার। হাতে থাকা অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ায় থাকা খাওয়া নিয়ে সংকটে পড়েছেন অনেকে। দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেন তারা।