বৈশাখী ভাতা দেয়া হয়নি বাংলাদেশ বিমানের কোন পাইলটকে

এমডি-পরিচালকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ২ কোটি টাকা ভাতা প্রদান

এভিয়েশন রিপোর্ট : বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সরকার সর্বস্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বৈশাখী ভাতা চালু করলেও এবছর বাংলাদেশ বিমানের কোন পাইলট এই ভাতা পাননি। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই বৈশাখী ভাতা দেয়া হলেও একমাত্র পাইলটদেরকে এই ভাতা দেয়া হয়নি। অথচ করোনা ভাইরাসের এই মহামারীর মধ্যে জীবনের সর্বোচ্চ ঝুকি নিয়ে পাইলটরা ফ্রন্ট লাইনে থেকে বিমানে কাজ করছেন।

সংশ্লিস্টরা বলেছেন, পাইলটদের বেতন বেশি বলে তাদের নানা ভাবে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। বোয়িং ৭৭৭ এর একজন পাইলট যদি সাড়ে ৮ লাখ টাকা বেতন পেতেন এখন তাদের বেতন কর্তন করে দেয়া হচ্ছে ২ থেকে সোয়া ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাইলটদের জন্য আউট স্টেশন সেলারী ছিল ২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যায় সংকোচন করতে সেই টাকা কর্তন করা হয়েছে।

এখন আবার বাকী টাকার উপর ৫০ শতাংশ কর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোট কথা সব ধরনের খড়গ এখন পাইলটদের উপর।

গত ৫ মে এক অফিস আদেশে পাইলটদের ক্ষেত্রে যাদের চাকরীর বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে তাদের আউট স্টেশন স্যালারী কর্তনের পর গ্রস সেলারী হতে ২৫ শতাংশ বেতন কর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যাদের চাকরীর বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে তাদের ক্ষেত্রেও আউট স্টেশন অ্যালাউন্স কর্তনের পর যে বেতন থাকবে তার ৩০ শতাংশ কর্তন করা হবে।

এছাড়া যাদের চাকরীর বয়স ১০ বছরের বেশি তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়মে গ্রস সেলারীর ৫০ শতাংশ কর্তন করা হবে। অর্থাত একজন বোয়িং ৭৭৭ এর পাইলট বেতন পেতেন সাড়ে ৮ লাখ টাকা। বর্তমান অ্যাডমিন অর্ডার অনুযায়ী ওই পাইলটের এই বেতন থেকে প্রথমে আউট স্টেশন অ্যালাউন্স ২ লাখ ১৬ হাজার টাকা কর্তন করা হবে। এরপর যে বেতন থাকবে তার ৫০ শতাংশ কর্তন করা হবে। সে অনুযায়ী ওই পাইলট বেতন পাবেন এখন ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে তার বেতন কর্তন করা হচ্ছে ৬৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ পাইলট এসোসিয়েশন বাপা সভাপতি ক্যাপ্টেন মাহবুুবুর রহমান এভিয়েশন নিউজকে বলেন, বর্তমান অফিস আদেশ অনুযায়ী একজন সিনিয়র পাইলট এখন বেতন পাবেন মাসে ২ লাখ টাকা। তার মতে ৫০ কিংবা ৬৫ শতাংশ নয়, একজন পাইলটের এখন বেতন কর্তন করা হবে মাসে ৭০ শতাংশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানের একজন সিনিয়র পাইলট বলেন, আগামী ১০ মে বিমান ঢাকা-লন্ডন-ঢাকা শাটল ফ্লাইট করবে।

একটানা ২৬ ঘন্টা ডিউটি করবে। জীবনের ঝুকি নিয়ে যারা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য এত বিশাল দায়িত্ব নিচ্ছে তাদের বৈশাখী ভাতা দেয়া হয়নি। মোট ২ কোটি টাকা বৈশাখী ভাতা দেয়া হয়েছে সবাইকে। বিমানের এমডি পরিচালক থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে বসে এই ভাতা উপভোগ করছেন। আর পাইলটরা ঝুকি নিয়ে কাজ করলেও তাদের মুল্যায়ন করা হচ্ছে না। এটা এক ধরনের বৈষম্য।

এদিকে জানাগেছে, সিএফও‘র (চীফ ফাইনান্সিল অফিসার) আদেশ অনুসারে এবং বেতন ভাতা কর্তনের নতুন অ্যাডমিন অর্ডারে কোন নির্দেশনা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা প্রদানের অপরাধে কন্ট্রোলার অব একাউন্টস মঞ্জুর ইমামসহ দুই নিরীহ কর্মকর্তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত বহাল তবিয়তে আছেন সিএফও ও পরিচালক ফাইন্সান্স বিবেক সুদ।

জানাগেছে বিমান ম্যানেজমেন্টের সর্বোচ্চ কর্তাদের নির্দেশে এই বৈশাখী ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু শীর্ষ কর্মকর্তারা সবাই বহাল তবিয়তে থাকলেও ওএসডি হলে মঞ্জুর ইমাম ও মহিউদ্দিন।

সরকারি গেজেট অনুযায়ী নতুন বেতনকাঠামোয় বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই বৈশাখী ভাতা পাচ্চেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সব সম্প্রদায়ের মানুষ একই সঙ্গে ও একই সময় এই ভাতা পাবেন। বাংলা নববর্ষের শুভলগ্নে এই ভাতা প্রদান ইতিমধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

Comments (0)
Add Comment