করোনা পরীক্ষায় প্রথম দিন বিদেশগামীদের চরম ভোগান্তি

দেশব্যাপী বিদেশগামীদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে দেশের বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন অফিসগুলোয় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বিদেশগামীদের। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নমুনা দিতে হয়েছে।

অ্যাপে নমুনা পরীক্ষার ফি দিতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। নমুনা দিতে আসা বিদেশগামীরা বলছেন, সিভিল সার্জন অফিসগুলোয় নমুনা নেয়ার বুথের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তারা বলেছেন, আস্তে আস্তে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়বে। ফলে যাত্রীর সংখ্যাও বাড়বে। তখন এসব সেন্টারে নমুনা দিতে গিয়ে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি মার্কেটে স্থাপিত করোনাভাইরাস আইসোলেশন সেন্টারে স্বাস্থ্য অধিদফতর বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য করোনার নমুনা পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সরেজমিন দেখা যায়, প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে নমুনা দিতে আসা কোনো কোনো ব্যক্তির সময় লেগেছে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। বৃষ্টিতে ভিজে মহিলা ও শিশুদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে।

নমুনা দিতে আসা হুমায়ুন কবির জানান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ অ্যাপের মাধ্যমে টাকা দেয়ায় তাদের ২ ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। কারণ তাদের মোবাইল ফোনে নগদ অ্যাপ ডাউনলোড করা ছিল না। এরপর নগদ অ্যাপ ডাউনলোড করে সেখানে টাকা ভরে তারপর ফি জমা দিতে হয়েছে তাদের। অনেকের কাছে স্মার্টফোন না থাকায় তারা ফি জমা দিতে পারেননি। ভুক্তভোগীরা বলেছেন, ফি দেয়ার এ বিষয়টি আগে জানা থাকলে এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।

করোনা পরীক্ষার জন্য সবার আইসোলেশন সেন্টারে ঢোকার সময় নিজের নাম, ঠিকানা, বয়স, পাসপোর্ট নম্বর মৌখিকভাবে জানাতে হয়েছে। ভেতরে ঢুকে নগদ অ্যাপের মাধ্যমে ফি’র ৩ হাজার ৫৩৯ টাকা জমা দিতে হয়েছে। টাকা জমা দেয়ার রসিদ নিয়ে ফরম পূরণ করতে হয়েছে। ফরমের উপর রসিদ যুক্ত করে বুথে জমা দিয়ে কোভিডের নমুনা পরীক্ষা করাতে হয়েছে।

ডিএনসিসি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার করোনা পরীক্ষা কেন্দ্রে ১৭টি বুথ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বুথ থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের কোভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নারীদের সুবিধার জন্য দুটি বুথ রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬০ বছর এবং এর বেশি বয়সী যাত্রীদের জন্য একটি আলাদা বুথ সংরক্ষিত রয়েছে।

দুপুরে কেন্দ্রে গিয়ে ডিএনসিসি মার্কেটের এই পরীক্ষা কেন্দ্রে শতাধিক বিদেশগামী যাত্রীকে লাইনে দেখা যায়। সকালে বৃষ্টির কারণে নগদের প্রতিনিধিরা সময়মতো কেন্দ্রে হাজির না থাকায় যাত্রীদের বেশি ভোগান্তি হয়েছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রগামী নাদিরা সুলতানা বলেন, ‘২৩ জুলাই তার ফ্লাইট। নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে বিদেশে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আশা করছি, করোনা নেগেটিভ সনদই পাব। বাকিটা ভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, এই পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। তাই ভয় হচ্ছে। যদি ভুল করে পজিটিভ রিপোর্ট দিয়ে দেয়, তাহলে অনেক খেসারত দিতে হবে। তিনি বলেন, নগদ অ্যাপে টাকা জমার বিষয়টি জানা থাকলে আরও স্বচ্ছন্দে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা করিয়ে ফিরতে পারতেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, মহাখালী ডিএনসিসি মার্কেটে স্থাপিত এই কোভিড পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিদেশগামী যাত্রীদের পরীক্ষা করানো হবে। নমুনা সংগ্রহের পরদিন পরীক্ষার ফলাফল সনদ প্রদান করা হবে।

বিমানের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ৩টি এয়ারলাইন্স সপ্তাহে ৩টি করে ফ্লাইট চালাচ্ছে। তাতেই যাত্রীদের এত ভিড়, যখন প্রতিদিন ফ্লাইট শুরু হবে এবং সব এয়ারলাইন্স একসঙ্গে ফ্লাইট শুরু করবে, তখন এই ভিড় সামলাতে অনেক বেগ পেতে হবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে।

প্রকাশ : যুগান্তর

Comments (0)
Add Comment