মুটিয়ে গেছেন পর্যটকরা, কমানো হলো ভেনিসের নৌকায় সর্বোচ্চ যাত্রী সীমা

ভেনিসের বিশাল পর্যটন শিল্পের ওপর সঙ্কটের বোঝা চেপে দিয়েছিল করোনাভাইরাস মহামারী। কিন্তু যখনই লকডাউন থেকে সবাই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, গন্ডোলিয়ারদের কাঁধ থেকে আরেকটি চাপ কমাতে চাইছে নগর কর্তৃপক্ষ।

নতুন নিয়মে ভেনিসের বিখ্যাত গন্ডোলায় (কায়াকের মতো ছোট্ট রোইং বোট) এখন থেকে সর্বোচ্চ ছয় জনের পরিবর্তে বসতে পারবেন পাঁচজন পর্যটক।

ভাবছেন করোনাভাইরাসের বিস্তার রুখতে এই নিয়ম? না, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাকে উৎসাহিত করতে এ নিয়ম হয়নি। টানা তিন মাস লকডাউনে থেকে অধিকাংশ মানুষ শরীরে মেদ জমিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের গড় ওজন বেড়ে গেছে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমানে। অবশ্য  মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা গত কয়েক দশক ধরেই সারা দুনিয়াতে জেঁকে বসেছে। ফলে সরু খালে ছয় জন পর্যটক নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো একটি গন্ডোলার জন্য কঠিন ও ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে গেছে।

ভেনিসের গন্ডোলা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেয়া বালবি নতুন নিয়মের ব্যাখ্যা করে বলেন, বলতে গেলে ১০ বছর ধরেই পর্যটকদের ওজন বেড়ে চলেছে। কাজেই আগের মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতি না আসা পর্যন্ত আমরা তাদের সংখ্যা সীমিত করে দিচ্ছি।’

নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে ভেনিসের ঐতিহ্যবহুল সরু নৌকার জন্য, যা ছোট খাল দিয়ে ধীরে ধীরে চলে। এছাড়া বড় খাল দিয়ে ট্যাক্সির মতো চলাচলাকারী ‘দ্য প্যারাদা’ নামের গন্ডোলার সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণক্ষমতা কমানো হচ্ছে। এখন থেকে এটিতে ১৪ জনের পরিবর্তে যাত্রী উঠতে পারবেন ১২ জন।

বালবি জানান, যাত্রীদের ভার বেশি হয়ে গেলে গন্ডোলা যখন পানিতে চলে তখন খালের ট্র্যাফিক আইন মেনে চলা গন্ডোলিয়ারের (চালক) জন্য কঠিন হয়ে যায়।

গন্ডোলিয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট রাউল রোভেরাতো কোনো রাখঢাক না রেখেই লা রিপাবলিকা পত্রিকাকে বলেন, ‘কিছু দেশ থেকে, এটা (পর্যটক) যেন বোমা লোড করার মতো! যখন বোট ভরে যায়, তখন নৌকার কাঠামো ডুবে যায় এবং পানি প্রবেশ করে। আধা টনের মতো মাংস নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া সত্যিই বিপজ্জনক!’

ভেনিসে বর্তমানে নিবন্ধনকৃত ৪৩৩ জন গন্ডোলিয়ার ও ১৮০ জন বিকল্প গন্ডোলিয়ার রয়েছেন। যদিও নভেল করোনাভাইরাসের কারণে পর্যটক কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেখানে গন্ডোলার সংখ্যাও অনেক কমে গেছে। ভেনিসে গন্ডোলা চালানোর নিবন্ধন পেতে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় কিংবা গন্ডোলার মাঝির ছেলে সুযোগটি পেতে পারে।

সূত্র: সিএনএন, published, Bonik Barta

Comments (0)
Add Comment