বিদেশী বিনিয়োগকারীর অর্থ নিয়ে লাপাত্তা ব্যবসায়ী দম্পতি, থানায় মামলা

তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আকৃষ্ট হয়ে এ খাতে বিনিয়োগ করতে আসেন ডেনমার্কের নাগরিক কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড। বাংলাদেশী দুই অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন হেকা প্রডাকশন লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানা। ডেনমার্কের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পোশাক তৈরি করত তাদের প্রতিষ্ঠানটি। একসঙ্গে বছর দুয়েক ব্যবসা পরিচালনার পর এক পর্যায়ে দুই বিদেশী বিনিয়োগকারীর প্রায় আড়াই কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান তাদের এদেশীয় অংশীদার মো. এমদাদুল হাসান তালুকদার ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা সালমা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় এ দুই দম্পতির বিরুদ্ধে ১৪ আগস্ট গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। ডেনমার্কের নাগরিক কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ডের পক্ষে মামলাটি করেছেন গুলশানের বাসিন্দা এএফএম সাইফুল ইসলাম খান। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, এমদাদুল হাসান তালুকদার ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা সালমাকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০১৬ সালে হেকা প্রডাকশন লিমিটেড নামের তৈরি পোশাক কারখানা গড়ে তোলেন কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড। পরবর্তী সময়ে এমদাদুল হাসান তালুকদার ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা সালমা তাদের শেয়ারের অর্ধেকাংশ কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন বিদেশী অংশীদারদের।

তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী ওই বছরের ৬ জুন যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা থেকে ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এরপর কয়েক দফায় ওই দম্পতিকে মোট ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা প্রদান করেন কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড। কোম্পানির ৬৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা তাদের নামে প্রদানের জন্য চুক্তিনামাও হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তারা জানতে পারেন, কোম্পানির কোনো শেয়ারই তাদের নামে হস্তান্তর হয়নি। এর মধ্যেই লাপাত্তা হয়েছেন এমদাদুল হাসান তালুকদার ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা সালমা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ার গাজীরচট মাদ্রাসা রোডে ১০ হাজার বর্গফুট জায়গার ওপর ২০১৬ সালের মে মাসে হেকা প্রডাকশন লিমিটেড নামের তৈরি পোশাক কারখানাটি গড়ে তোলেন কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড। প্রথমদিকে কারখানায় কাজ করতেন তিন শতাধিক শ্রমিক। পরবর্তী সময়ে ব্যবসা প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

মূলত কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড ডেনমার্ক থেকে সে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য পোশাক তৈরির কার্যাদেশ নিয়ে আসতেন। সে অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে পাঠানো হতো ডেনমার্কে। এভাবে কয়েক দফা শিপমেন্ট পরিচালনার পর গার্মেন্ট ব্যবসায়ী দম্পতি মো. এমদাদুল হাসান তালুকদার ও তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা সালমার আর্থিক অনিয়মের ফলে অর্থ সংকটে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এক পর্যায়ে এ দম্পতি নিজেদের শেয়ার বিক্রির কথা বলে আরো ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বিদেশী বিনিয়োগকারী দুই ভাইয়ের কাছ থেকে।

শুরু থেকে হেকা প্রডাকশন লিমিটেডের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা মো. লিয়াকত জানান, কার্স্টেন রুশগার্ড ও হেনরিক রুশগার্ড ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী। কারখানা গড়ে তোলা থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের উপস্থিতি ছিল। তারা দুজনই এমদাদুল হাসান তালুকদারকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন।

তাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে আর্থিক অনিয়ম শুরু করেন এমদাদুল হাসান তালুকদার। একটা পর্যায়ে শেয়ার বিক্রির কথা বলেও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন তিনি। এরপর হেকা প্রডাকশনের কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। কর্মহীন হয়ে পড়েন সেখানকার শ্রমিকরা।

Comments (0)
Add Comment