বাংলাদেশ ভ্রমণ বাতিল করছেন বিদেশিরা: হোটেলের বুকিং বাতিল

এভিয়েশন নিউজ: বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধে দেশের সেবাখাতে অচলাবস্থা চলছে। পর্যটন, রেস্তোরাঁ, অভিজাত হোটেলসহ নানা ধরনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা একেবারেই ত্রাহি। বিদেশি এবং দেশি পর্যটকরা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন। রাজধানীর নামিদামি রেস্তোরাঁগুলোতে অতিথি আগের মতো আসছে না। তারকা হোটেলগুলোতে বিদেশিরা আগে যে বুকিং দিয়েছেন তারও কিছু বাতিল করা হয়েছে। ট্যুর অপারেটর, অভিজাত হোটেলের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। টানা অবরোধ চললে অর্থনীতির প্রাণশক্তি সেবাখাতের ব্যবসা তলানিতে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। দেশের অর্থনীতিতে সেবাখাতের অবদান ৫০ শতাংশেরও বেশি।

প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের কর্মকর্তা সালমান কবির জানিয়েছেন, বছরের এই সময়টিতে ৯০ শতাংশ হোটেল রুম বুকিং থাকে। গত কয়েকদিনে তা ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। অবস্থা এমন চলতে থাকলে আগামী দিনগুলোতে তা ৫০ শতাংশের নীচে নেমে যেতে পারে। তিনি জানান, তারকা হোটেলগুলোতে সাধারণত বিদেশি ব্যবসায়ীরা থাকেন। গত কয়েকদিনে তাদের অনেকেই বুকিং বাতিল করেছেন। হোটেল রুমগুলো খালি থাকায় রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ও এর প্রভাব পড়েছে। তবে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো চলছে বলে তিনি জানান।

বিদেশি যেসব পর্যটক বাংলাদেশে আসেন তাদের অনেকেই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এ বিষয়ে বেংগল ট্যুর্স-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হোসাইন বলেন, পর পর তিন বছর এ সহিংস অবস্থা চলছে। তার মধ্যে এবারের অবরোধে ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তিনি জানান, ইতিমধ্যে বিদেশি পর্যটকরা তাদের সকল ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এসব পর্যটক ভারত, নেপাল এবং মিয়ানমারে ভ্রমণে গেছেন। সাধারণত জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশসমূহ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্যটকরা বেংগল ট্যুর্স-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে আসেন। মাসুদ হোসাইন জানান, অবরোধের কারণে পর্যটন খাতের কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা টাকার অংকে হিসাব করা মুশকিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ইমেজের যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়।

‘জার্নি প্লাসের’ মুখ্য কর্মকর্তা তৌফিক রহমান জানান, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন এবং জাপান থেকে ১২০ জন পর্যটক তার কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশে আসতে চেয়েছিলেন। ইতিমধ্যে তারা তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। এর মধ্যে একশ পর্যটকের জন্য তাদের ঢাকা-কক্সবাজার বিমান টিকেট বুকিং করা ছিল। সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।

শুধু অভ্যন্তরীণ পর্যটনই নয়, যারা পর্যটনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে যান তাদের অনেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্রমণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঢাকা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, মরিশাস এবং মিসরে পর্যটক পাঠিয়ে থাকে রেনেসাঁ এভিয়েশন এন্ড সার্ভিসেস লি:। প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানান, ব্যবসা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সময়ে কারো ভ্রমণের মনমানসিকতা নেই। তিনি আরো জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য খারাপ থাকলে বিদেশে যাওয়ার হারও কমে যায়।

অবরোধে দেশে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ও মন্দা চলছে। নিরাপত্তার কারণে অনেকে বাসা থেকে বের হন না। আগে যেখানে জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী প্রভৃতি বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে পালন করতো এখন তা হচ্ছে ঘরোয়াভাবে। সাউথ আফ্রিকান চেইন রেষ্টুরেন্ট নান্দোস-এর কর্মকর্তা মহিতুল বারী জানালেন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দেশের সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবসা যা হয়েছে এবার তা ২০ শতাংশ কমেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আমরা রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায় ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে ধরেছিলাম। এখন দেখছি প্রবৃদ্ধি দূরে থাক, গতবারের মতোও ব্যবসা হবে না।

বাতিলবিদেশিভ্রমণহোটেলের বুকিং
Comments (0)
Add Comment