গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ওমান এয়ারের স্টেশন ম্যানেজার দিলারা আহমেদ এ তথ্য জানিয়ে বলেন, এরপরও আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এই যাত্রীদের যাতে অন্য কোনো এয়ারলাইন্সের ফাইটে তুলে গন্তব্যে পাঠাতে।
গত বুধবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমানগামী একটি ফাইট গন্তব্যে রওয়ানা হওয়ার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। ৫ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে অবস্থান করার সময় রানওয়েতে ফেলে রাখা বিমানের একটি কনটেইনার (চাকা লাগানো) হঠাৎ আছড়ে পড়ে ওমান এয়ারের ওপর। ওই সময় ২০০ যাত্রী বিমানের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন। পরে প্রকৌশলীরা বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও কূলকিনারা করতে পারেননি। পরে ওই ফাইটের যাত্রীদের পাঠানো হয় একটি হোটেলে।
গতকাল সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওমান এয়ারের স্টেশন ম্যানেজার দিলারা আহমেদ বলেন, লোকালভাবে এয়ারক্রাফটের বডি রিপেয়ারিং করে দেয়া হয়েছে; কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। তিনি বলেন, কনটেইনারের আঘাতে ওমান এয়ারের পেটের পেছনের অয়েল ট্যাংকারের কাছের বডির বড় একটি অংশ ছিদ্র হয়ে ড্যামেজ হয়ে গেছে। এ বডির পুরো অংশই উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস কোম্পানি থেকে এনে রিপ্লেস করতে হবে। তার আগ পর্যন্ত এটি কোনোভাবেই উড্ডয়ন করা সম্ভব নয়।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিমানের কাছে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হবে কি না সেটা ওমান এয়ারলাইন্স কোম্পানির নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারব না। যাত্রীরা এখন কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা কোথায় এবং কোন হোটেলে রয়েছেন সেটা আমি বলব না। তবে আমরা চেষ্টা করছি এই ফাইটের ২০০ জন যাত্রীকে বিভিন্ন ফাইটে তুলে দ্রুত গন্তব্যে পাঠাতে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওমান এয়ারের ফাইটটি দুর্ঘটনায় পড়ার পর যাত্রীদের ৯ ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। পরিস্থিতি জটিল দেখে শেষ পর্যন্ত ওই যাত্রীদের রাত সোয়া ১২টায় হোটেলে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ফাইটে অনেক শ্রমিক শ্রেণীর যাত্রী রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, যথাসময়ে না যেতে পারলে তাদের সমস্যা হতে পারে।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে প্রতিদিন ওমান এয়ারের একটি করে ফাইট পরিচালিত হয়। বর্তমানে ওমান এয়ারের বহরে রয়েছে মোট ৫০টি উড়োজাহাজ।
সূত্রঃনয়া দিগন্ত