ভারতের বারাণসী বিমানবন্দরে অস্ত্র যাচাইয়ের সময় এক যাত্রীর পিস্তল থেকে গুলি ছুটে দুজন বিমানবন্দরকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত দুজনই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও স্ক্রিনিংয়ের দায়িত্বে থাকা AAICLAS-এর কর্মী। তাদের চিকিৎসার জন্য নিউ লক্ষ্মী ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল।
জানা গেছে, আজমগড়ের বাসিন্দা ওই যাত্রী তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট IX-1810-এ করে মুম্বাই যাওয়ার জন্য বারাণসী বিমানবন্দরে এসেছিলেন। বিমানটিতে ওঠার আগে তিনি নিজের কাছে অস্ত্র থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। তাঁর কাছে একটি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন ছিল বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীর অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করার সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পিস্তল থেকে এক রাউন্ড গুলি বেরিয়ে যায়। গুলিটি প্রথমে মেঝেতে আঘাত করে। এরপর সেটি কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা দুই বিমানবন্দরকর্মীকে আঘাত করে।
গুলিতে এক নারী কর্মীর উরুতে এবং এক পুরুষ কর্মীর হাতে আঘাত লাগে। ঘটনার পরপরই বিমানবন্দরে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
বারাণসী বিমানবন্দরের পরিচালক পুনীত গুপ্তা জানিয়েছেন, অস্ত্র পরীক্ষার সময় যাত্রী এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীটি আগে থেকেই অস্ত্র থাকার বিষয়টি ঘোষণা করেছিলেন। তবে যাচাইয়ের সময় কীভাবে অস্ত্র থেকে গুলি বেরিয়ে গেল, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং অস্ত্রটি কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছিল, সেটি দুর্ঘটনাবশত গুলি ছোড়া নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিমানবন্দরে বৈধভাবে বহন করা আগ্নেয়াস্ত্র পরীক্ষা ও যাচাইয়ের সময় কী ধরনের সতর্কতা অনুসরণ করা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এয়ারপোর্টে বৈধ অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত অস্ত্র বহনকারী যাত্রীদের অস্ত্র ও নথিপত্র আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। তবে এই ঘটনার পর অস্ত্র পরীক্ষার পদ্ধতি আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনায় আহত দুই কর্মীর চিকিৎসা চলছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশি তদন্ত শেষ হলে গুলি ছোড়ার প্রকৃত কারণ এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।